এ ঘটনায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়া পর্যটকবাহী গাড়িবহর আটকা পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তায় পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি চলছিল। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেন সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা-কর্মীরা। অবরোধের কারণে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়া প্রায় দুই হাজার পর্যটক আটকা পড়েন।
সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণার পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে বৃহস্পতিবার সকালে পর্যটকেরা সাজেক ছাড়তে শুরু করেন। সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় পর্যটকবাহী গাড়িবহর খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। তবে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উজোবাজার এলাকায় অবরোধের মুখে পড়ে গাড়িবহরটি।
অবরোধকারীরা সড়কে অবস্থান নেওয়ায় পর্যটকেরা সামনে এগোতে পারছিলেন না। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবরোধকারীদের সরিয়ে দিলে বেলা ১১টার দিকে গাড়িবহরটি উজোবাজার এলাকা ছাড়ে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোলাগুলি শুরু হয়।
সাজেকে পর্যটকবাহী যানবাহনের লাইনম্যান মো. ইয়াসিন বলেন, অন্যদিন সাজেক থেকে পর্যটকবাহী যানবাহন সকাল সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় গাড়িবহর ছেড়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় প্রায় দুই হাজার পর্যটক সাজেক ছেড়েছেন।
সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন গত বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেয়। সংগঠন দুটির অভিযোগ, সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র সদস্যদের তৎপরতা ও হুমকির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
এর আগে ১৫ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেন সংগঠন দুটির নেতা-কর্মীরা। এ সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে পর্যটকদের সাজেক ছেড়ে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অবরোধ ও পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের ঘোষণায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা প্রথম আলোকে বলেন, অবরোধের কারণে পর্যটকদের সাজেক ছাড়তে হচ্ছে। অনেকে রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করেছেন। সড়ক অবরোধ হলে শুধু পর্যটক বা ব্যবসায়ীরা নন, স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম ভোগান্তিতে পড়েন। খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা ও উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
গোলাগুলির ঘটনায় সাজেকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পর্যটকদের যাতায়াত এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে গোলাগুলিতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।