দক্ষিণ পূর্ব

কক্সবাজারে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে চার পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ একজন

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৫৮ সকাল
পঠিত : ৩৩
কক্সবাজারে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে চার পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ একজন

ছবি

Degchibarictg

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের রামু উপজেলার পেঁচারদ্বীপে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে চার পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় লোকজন তিন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর-সংলগ্ন রেজুখাল ও সমুদ্রের মধ্যবর্তী চরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে নিখোঁজ পর্যটক মো. হারুনের মরদেহ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়ায়।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান দুর্ঘটনা ও হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকার এবং দুজন চট্টগ্রামের বাসিন্দা। ঢাকার নিহত পর্যটকেরা হলেন উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকার মোকারম হোসেনের ছেলে আল মাহিবুল ইবনে মোকারম ওরফে রোহান (২৩) এবং দক্ষিণখান এলাকার মাহবুবুল হকের ছেলে সাইফুল হক জিসান (২৩)। চট্টগ্রামের নিহত দুজন হলেন বায়েজিদ শেরশাহ জামতলা এলাকার মো. এরশাদের ছেলে মো. আকাশ (২০) এবং একই এলাকার মো. কবিরের ছেলে মো. হারুন (২০)। হারুনের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি সাগর বিলাস এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ঢাকার উত্তরা আজমপুর এলাকার লাবিবর রহমানের ছেলে এস এম নাফিজুর রহমান নিবিড় (২৩)।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ইউএনও মো. জিল্লুর রহমান জানান, পর্যটকদের দুটি দল পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর-সংলগ্ন রেজুখাল পেরিয়ে খাল ও সমুদ্রের মধ্যবর্তী জেগে ওঠা চরে ঘুরতে যান। বিকেলের দিকে সাগরে জোয়ার শুরু হলে দ্রুত পানি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে জোয়ারের পানিতে চরটি তলিয়ে গেলেও পর্যটকেরা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে তাঁরা পানিতে তলিয়ে যান।

এ সময় স্থানীয় লোকজন চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক দলের তিন সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ ছিলেন আরও দুজন। বৃহস্পতিবার সকালে হারুনের মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়ায়।

জীবিত উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে রাকিব হাসান (১৯), একই এলাকার মৃত ছগিরের ছেলে মো. সানী (২০) এবং বায়েজিদে বসবাসকারী নোয়াখালীর মো. হেলালের ছেলে মো. আকাশ। তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. সানী ও মো. আকাশ জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা ট্রেনে কক্সবাজার পৌঁছান। আগে থেকে বুকিং করা পেঁচারদ্বীপের একটি রিসোর্টে ওঠার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সমুদ্রে গোসল করতে নামেন। পরে রেজুখাল পেরিয়ে চরে চলে যান। সেখানে অন্য একটি পর্যটক দলকেও একইভাবে খাল পেরিয়ে চরে যেতে দেখেন তাঁরা।

অন্যদিকে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থীর একটি দল ১৮ অক্টোবর রাতে ঢাকা থেকে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরদিন তাঁরা বান্দরবানে পৌঁছে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখেন। বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার ‘শোর নেস্ট বিচ ক্যাম্প’ রিসোর্টে ওঠেন তাঁরা। পরে বিকেলে সাত বন্ধু পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর-সংলগ্ন সৈকতে গোসল করতে নেমে দুর্ঘটনার শিকার হন।

ইউএনও জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বুধবার রাতে উদ্ধার হওয়া তিনজনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধানে সাগরে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে হারুনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও অপর নিখোঁজ পর্যটক এস এম নাফিজুর রহমান নিবিড়ের সন্ধানে তল্লাশির বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে গত ১৭ অক্টোবর সকালে মেরিন ড্রাইভের ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার শোক কাটতে না কাটতেই হিমছড়িতে সমুদ্রে ডুবে পর্যটকদের প্রাণহানির ঘটনায় পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা এবং সমুদ্রে গোসলের সময় সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।