আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি মহাসপ্তমী। ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন ও আমন্ত্রণের পর আজ থেকে শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। বাংলা পঞ্জিকা ও তিথিচক্রের বিশেষ বিন্যাসের কারণে এ বছর সপ্তমী তিথি শনিবার ও রোববার (১৭ ও ১৮ অক্টোবর) দুই দিনজুড়ে থাকবে।
মহাসপ্তমীর সকালে শাস্ত্রীয় বিধি অনুসারে নবপত্রিকা স্নান ও পূজামণ্ডপে স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দিনের প্রধান আচার-অনুষ্ঠান। প্রচলিত ভাষায় নবপত্রিকা ‘কলাবউ’ নামে পরিচিত। কলাগাছ, কচুগাছ, হলুদগাছ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু ও ধানগাছ—এই নয়টি উদ্ভিদ একত্র করে নবপত্রিকা প্রস্তুত করা হয়। শাস্ত্রীয় বিধি অনুসারে স্নান করিয়ে নবপত্রিকাকে পূজামণ্ডপে প্রতিষ্ঠা করা হবে।
নবপত্রিকা পূজার মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও উদ্ভিদজগতের সঙ্গে দেবী আরাধনার গভীর যোগসূত্র প্রতিফলিত হয়। এরপর নির্দিষ্ট মন্ত্র ও পূজাবিধি অনুসারে দেবীর আরাধনা করা হবে। ষোড়শোপচারসহ প্রচলিত শাস্ত্রীয় বিধিতে পূজা, মন্ত্রপাঠ, পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, ভোগ ও আরতির মধ্য দিয়ে দেবীর প্রতি ভক্তি নিবেদন করবেন পূজারিরা।
সকালে পূজা শেষে ভক্তরা ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করবেন। পরিবার, সমাজ ও দেশবাসীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনায় পূজামণ্ডপে সমবেত হবেন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী ভক্ত ও দর্শনার্থী। দিনভর পূজা-অর্চনা, প্রসাদ বিতরণ ও নানা ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে ছড়িয়ে পড়বে উৎসবের আমেজ। সন্ধ্যায় ধূপ, প্রদীপ, ঘণ্টা, শঙ্খ ও ঢাকের ধ্বনিতে মুখরিত হবে পূজামণ্ডপ।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, সপ্তমীবিহিত পূজার নির্ধারিত সময় সকাল ৭টা ৩১ মিনিট থেকে ৯টা ৫৭ মিনিট পর্যন্ত। তবে সপ্তমী তিথি রোববার পর্যন্ত থাকায় আগামীকালও মণ্ডপে মণ্ডপে সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার সপ্তমীতে দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় চড়ে। প্রচলিত বিশ্বাসে দেবীর ঘোটকে আগমন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করে। অন্যদিকে, বিজয়া দশমীতে দেবীর গমন হবে নৌকায়, যা প্রবল বন্যা ও খরার আশঙ্কার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
এদিকে মহাসপ্তমী উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক জেএমসেন হল প্রাঙ্গণে শনিবার ও রোববার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দুপুর দেড়টায় প্রবীর নন্দী ও তাঁর দলের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হবে জাগরণ পুঁথিপাঠ। বিকেল সাড়ে ৩টায় বংশী শিল্পকলা একাডেমি, বাঁশরী নজরুল চর্চা কেন্দ্র, অনন্যা সংগীত নিকেতন, প্রারম্ভিক সংগীত নিকেতন, আনন্দধারা সংগীত ভুবন ও সুরানন্দের পরিবেশনায় বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান হবে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যারতি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বেতার ও টেলিভিশনের শিল্পীদের অংশগ্রহণে বিশেষ সংগীতাঞ্জলির আয়োজন রয়েছে। এতে সংগীত পরিবেশন করবেন মিতালী রায়, সুপ্রিয়া মজুমদার লাকি, অনুপম দেবনাথ পাভেল ও অমিত সেন গুপ্ত।
আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসব। এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আর/দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।