সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, ‘আজকের দিন (সোমবার) হতে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। আমি উনাকে বলি—আমি পদত্যাগ করতে চাই। আমার কারণে আপনার কর্মকাণ্ড ম্লান না হয়ে যায়, দল না বিব্রত হয়। তবে মাদকের বিরুদ্ধে আমি যে শুরু করেছি, তা যেন অব্যাহত থাকে।’
মাদকবিরোধী অভিযানে নিজের ভূমিকার পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমি সেদিন কোনো ভুল করিনি।’
সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের সমালোচনা করেন ইশরাক। তিনি বলেন, ‘দুই–তিন দিন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে এ নিয়ে অনেক কিছুটা সত্য, কিছুটা অতিরঞ্জিত। কল্পকাহিনী বানানো হয়েছে। আমাকে টার্গেট করা হয়েছে। আমাকে হেয় করা হয়েছে। দলও বিব্রত হয়েছে।’
ইশরাকের দাবি, মাদক নির্মূলের মূল উদ্দেশ্য থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জমি দখল করতে যাই নাই, চাঁদা উঠাইতেও যাই নাই, মাদক নির্মূলের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম। আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য একটি আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে ছিল। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা থেকে আমি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়েছিলাম।’
রাজধানীর ঘুণ্টিঘর এলাকাকে মাদক বিতরণ ও বিস্তারের এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেন ইশরাক। তাঁর ভাষ্য, এ বিষয়ে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন। তবে ভয়ের কারণে স্থানীয় লোকজন প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহের কথাও জানান ইশরাক হোসেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মেয়র পদে নির্বাচন করতে প্রস্তুত আছি। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেয়, তবে অবশ্যই প্রার্থী হব।’
এর আগে শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন ইশরাক। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনা তৈরি হয়।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে নিয়ে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলে জানা যায়। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক নিজের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাওয়ার কথা জানান।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।