দক্ষিণ পূর্ব

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫

saiful
saiful
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:১৬ সকাল
পঠিত : ২৩
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫
Degchibarictg


ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দপ্তর আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সরকারের একটি সূত্র তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে জানিয়েছে, হামলায় পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার সময় সরকারের কয়েকজন সদস্য প্রাসাদের ভেতরে অবস্থান করছিলেন।

ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জানিয়েছেন, নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তারক্ষী এবং সেখানে কর্মরত বেসামরিক কর্মীরাও রয়েছেন। তিনি এ হামলাকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এডেন বিমানবন্দরে ইয়েমেনি সরকারকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার পুনরাবৃত্তি বলে উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার জনগণের মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।

এদিকে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি এবং সরকারের অন্যান্য সদস্য নিরাপদে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রাসাদের ভেতর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।

সরকারি বার্তা সংস্থা সাবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি প্রাসাদের আশপাশের এলাকায় বেসামরিক বাড়িঘরেও গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন একটি সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, প্রাসাদটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া কাসিম সারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, এডেনে সৌদি সামরিক অভিযানের সদর দপ্তরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সৌদি সামরিক উপস্থিতি রয়েছে—এমন যেকোনো স্থান বা স্থাপনাকে তাঁরা হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু বলে বিবেচনা করেন বলেও জানান তিনি।

ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাত

২০১৪ সালে ইয়েমেনের সরকার ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এর এক বছরের মধ্যে, ২০১৫ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দরাব্বুহ মনসুর হাদি দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। একই বছর হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে।

পরবর্তী সময়ে দেশটি কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়ে। রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়। এডেন হয়ে ওঠে প্রেসিডেন্সিয়াল পরিষদ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

জুলাই মাসে হুথি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার পর আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে এটিই প্রথম হামলার ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।