ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক জেএমসেন হল প্রাঙ্গণে ছয় দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষষ্ঠী উদযাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধন করেন বাঁশখালীর ঋষিধাম ও তুলসীধামের মোহন্ত শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় প্রতিমা মঞ্চের আবরণ উন্মোচন ও সন্ধ্যারতির মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় দেবীর অধিবাস।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিশ কুমার। পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক অর্পন কান্তি ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ।
আয়োজকেরা জানান, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ থেকেই সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কার্যক্রমের সূচনা। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ঐতিহ্যবাহী এ পূজায় মঙ্গল আহ্বানের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়ে আসছে। এর আগে এ আয়োজনের উদ্বোধন করতেন ঋষিধাম ও তুলসীধামের সদ্য ব্রহ্মলীন মোহন্ত শ্রীমৎ স্বামী সুদর্শনানন্দ পুরী মহারাজ। তাঁর অবর্তমানে এবার উদ্বোধন করেন বর্তমান মোহন্ত শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি চন্দন তালুকদার, পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি সাধন ধর, বিদ্যালাল শীল, অরবিন্দু পাল অরুণ, অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, পরিষদের সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রত্নাকর দাশ টুনু, শ্রীপ্রকাশ দাশ অসিত ও হিল্লোল সেন উজ্জ্বল।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, কল্যাণ ফ্রন্টের যুগ্ম সচিব বিশ্বজিৎ দত্ত বাবু, পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট নটু চৌধুরী ও বিপ্লব সেন, চট্টগ্রাম জেলা সৎসঙ্গ আশ্রমের সম্পাদক সুজন ঘোষ বাদশা, আনন্দময়ী কালীমন্দিরের সম্পাদক সুজন দাশ বাদশা, অর্থ সম্পাদক সুকান্ত মহাজন টুটুল, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক অঞ্জন দত্ত ও দীপংকর দেবনাথসহ পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
মহাষষ্ঠী উপলক্ষে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে কীর্তিকা নৃত্যালয় ও নৃত্যময়ী একাডেমির পরিবেশনায় নৃত্যানুষ্ঠান এবং স্পন্দন কালচারাল ইনস্টিটিউট, বিবেকানন্দ সংগীত নিকেতন, মূর্ছনা সংগীত একাডেমি ও কল্কি ব্যান্ডদলের পরিবেশনায় সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা জানান, দুর্গোৎসবের পরবর্তী দিনগুলোতেও থাকছে নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। শনিবার ও রবিবার মহাসপ্তমী উপলক্ষে দুপুর দেড়টায় প্রবীর নন্দী ও তাঁর দলের পরিবেশনায় জাগরণ পুঁথিপাঠ অনুষ্ঠিত হবে।
বিকেল সাড়ে ৩টায় বংশী শিল্পকলা একাডেমি, বাঁশরী নজরুল চর্চা কেন্দ্র, অনন্যা সংগীত নিকেতন, প্রারম্ভিক সংগীত নিকেতন, আনন্দধারা সংগীত ভুবন ও সুরানন্দের পরিবেশনায় বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান হবে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যারতি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বেতার ও টেলিভিশনের শিল্পীদের অংশগ্রহণে বিশেষ সংগীতাঞ্জলির আয়োজন রয়েছে। এতে সংগীত পরিবেশন করবেন মিতালী রায়, সুপ্রিয়া মজুমদার লাকি, অনুপম দেবনাথ পাভেল ও অমিত সেন গুপ্ত।
আর/ দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।