দক্ষিণ পূর্ব

চুয়েটে সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন ভিসি শরীফুল, যোগ দিলেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:২৫ দুপুর
সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
পঠিত : ৩৩
চুয়েটে সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন ভিসি শরীফুল, যোগ দিলেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ

ছবি

Degchibarictg

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) টানা শাটডাউন, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচির মধ্যেই অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে সভায় উপাচার্য ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোনো শিক্ষক সদস্য অংশ নেননি। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা ও চলমান অচলাবস্থা নিরসনের বিষয়ে আলোচনা হলেও বড় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অনলাইনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অংশ নেওয়া সিন্ডিকেট সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাহিদুর রহমান জানান, উপাচার্য ছাড়া চুয়েটের ছয়জন শিক্ষক সদস্যের কেউ সভায় উপস্থিত ছিলেন না। সভার বিস্তারিত বিষয়ে উপাচার্য নিজেই জানাবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে সিন্ডিকেট সদস্য ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, সভায় বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি কিংবা যোগাযোগের ঘাটতি থাকলে তা দূর করার বিষয়েও মতামত দিয়েছেন সদস্যরা।

চুয়েটে উপাচার্য পরিবর্তনের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলন চলছে। এর মধ্যে গত সোমবার সকালে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ভবনের ফটকে আবার তালা দিলে তিনি ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় তাঁকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফিরে উপাচার্য সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। শুক্রবার ছিল শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক শাটডাউনের ২৫তম দিন। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং অসহযোগ কর্মসূচিও চলছিল।

চুয়েটের সিন্ডিকেটে উপাচার্যসহ মোট ১৭টি সদস্যপদ রয়েছে। তবে সহ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদ শূন্য থাকায় কার্যকর সদস্যসংখ্যা ১৫। সভা শেষে ওই সদস্যদের মধ্যে ১৪ জনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মাত্র পাঁচজনের বক্তব্য পাওয়া যায়।

চুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান ছুটিতে থাকায় সভায় যোগ দিতে পারেননি বলে জানান। অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামাল জানান, তাঁর মা অসুস্থ থাকায় তিনি সভায় অংশ নেননি। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চুয়েটের বাইরের সিন্ডিকেট সদস্য প্রকৌশলী ফিরোজ খাননূন ফারাজী ব্যস্ততার কারণে সভায় যোগ দিতে পারেননি বলে জানান। অন্য কয়েকজন সদস্যের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে সভায় ক্লাস-পরীক্ষা চালু কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অচলাবস্থা নিরসনে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপাচার্যের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আর/ দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।