দক্ষিণ পূর্ব

জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা সৈনিকদের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৭ দুপুর
পঠিত : ৩৬
জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা সৈনিকদের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

ছবি

Degchibarictg
জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় পতাকা অর্জন শুধু সম্মানের বিষয় নয়, বরং অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পালনের নতুন শপথ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভারে সেনাবাহিনীর কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে সেনাবাহিনীর পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা। তাই ভিন্ন পরিচয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেও এ ধরনের পরিবেশ তাঁর কাছে নতুন নয়।

পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অর্জন করায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে অভিনন্দন জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘এই ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়, বরং এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন প্রতিনিয়তই আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’

তিনি আরও বলেন, জাতীয় পতাকা অর্জনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালনে নতুন অঙ্গীকার তৈরি হয়। পতাকার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।

মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা শুরুর পর চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন। পরে তিনি বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তারেক রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন। পরদিন ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনা কর্মকর্তার এই ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক অধ্যায় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা জনবলের ওপর নির্ভর করে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে। এ ক্ষেত্রে চেইন অব কমান্ডের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার স্পেস ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে সময়োপযোগী করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশেই অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য প্রতিরক্ষাসামগ্রী উৎপাদনে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সেনাসদস্যদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে চায়।

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।