দক্ষিণ পূর্ব

টুথপিক ও স্টিলের ঘোষণায় প্রসাধনী-গাড়ির যন্ত্রাংশ, চট্টগ্রাম বন্দরে ৮ চালান জব্দ

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৪৯ দুপুর
পঠিত : ৩৮
টুথপিক ও স্টিলের ঘোষণায় প্রসাধনী-গাড়ির যন্ত্রাংশ, চট্টগ্রাম বন্দরে ৮ চালান জব্দ

ছবি

Degchibarictg
চট্টগ্রাম বন্দরে টুথপিক, পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন, হিট ট্রান্সফার পেপার ও স্টেইনলেস স্টিল আমদানির ঘোষণা দিয়ে উচ্চ শুল্কের প্রসাধনী, নিষিদ্ধ ক্রিম, গাড়ির যন্ত্রাংশ, নাট-বল্টু ও বেয়ারিং আনার ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। এ ঘটনায় শুল্ক ফাঁকির চেষ্টার অভিযোগে আটটি চালান জব্দ করা হয়েছে। আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে এনবিআর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরে কয়েকটি চালানে ঘোষিত পণ্যের পরিবর্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন পণ্য পাওয়া গেছে। আবার কোনো কোনো চালানে ঘোষিত পণ্যের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত পণ্যও পাওয়া গেছে। চীন, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড থেকে এসব পণ্য আনা হয়েছিল। এমনকি কাস্টমসের ব্যবস্থায় কনটেইনার লক করা থাকার পরও প্রকৃত সিল পরিবর্তন করে তা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঢাকার নিউমার্কেটের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘ফরচুন গ্লোবাল ট্রেডিং’ চীন থেকে ১১ হাজার ৯৫৬ কেজি পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন আমদানির ঘোষণা দেয়। তবে চালানটি পরীক্ষা করে ঘোষিত মেশিনের পরিবর্তে স্টেজ লাইট, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, টুথপেস্ট, পিলিং জেল, সিরাম, এলইডি লাইট, সানগ্লাস ও কালো চুলের শ্যাম্পু পাওয়া যায়।

এ চালানে ঘোষিত ওজনের চেয়ে প্রায় ১ হাজার ৮১৭ কেজি বেশি পণ্য পাওয়া গেছে। এতে সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা বলে জানিয়েছে এনবিআর।

পুরান ঢাকার চকবাজারের ‘কাফ কর্পোরেশন’ চীন থেকে সাড়ে ২২ টন টুথপিক আমদানির ঘোষণা দেয়। বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১০৯৮৭৬৬-এর চালান পরীক্ষা করে মাত্র ১ হাজার ৬২০ কেজি টুথপিক পাওয়া যায়।

বাকি পণ্যের মধ্যে ছিল পাকিস্তানে তৈরি ‘গোরি বিউটি ক্রিম’, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, অ্যান্টি-এজিং জেল, হেয়ার রিমুভার স্প্রে, সানগ্লাস ও যৌন উত্তেজক হিসেবে বাজারজাত করা ‘ডিলে স্প্রে’। বিজ্ঞপ্তিতে কয়েক ধরনের ক্রিমকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) কর্তৃক নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ চালানে সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ আনুমানিক ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

ঢাকার ‘এইচ আর এন্টারপ্রাইজ’ থাইল্যান্ড থেকে ১৬ হাজার ৪০ কেজি ইঞ্জিন রবার বুশ আমদানির ঘোষণা দেয়। বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১২১৬৭৩০-এর চালানে কায়িক পরীক্ষায় প্রকৃত রবার বুশ পাওয়া যায় ৬ হাজার ৬২৫ কেজি।

বাকি পণ্যের মধ্যে ছিল ইঞ্জিন মাউন্টিং, সাসপেনশন বুশ, আর্ম বুশ, সেন্টার বেয়ারিং, স্প্রিং শ্যাকল ও স্টিয়ারিংয়ের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। এ চালানে সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ প্রায় ৪৪ লাখ টাকা।

একই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি চালানে, বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১২৩৪২৬৭-এ, কাস্টমস কমিশনারের পূর্বানুমতি ছাড়া এইচএস কোড পরিবর্তনের আবেদনের চেষ্টা নস্যাৎ করার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘নিউ ট্রাস্ট ট্রেডার্স’ চীন থেকে ২৩ হাজার ৬১৮ কেজি হিট ট্রান্সফার পেপার আমদানির ঘোষণা দেয়। বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১০৫৪০০১-এর চালান পরীক্ষা করে মাত্র ৩ হাজার ১৬০ কেজি হিট ট্রান্সফার পেপার পাওয়া যায়।

বাকি প্রায় ২১ হাজার ৪৬৭ কেজি পণ্যের মধ্যে ছিল ঘোষণাবহির্ভূত পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার। এ চালানে সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা।

বংশালের ‘নিউ রনি এন্টারপ্রাইজ’ ও ওয়ারীর ‘মোহাম্মাদীয়া ট্রেড’-এর দুটি চালানেও ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে প্রকৃত পণ্যের অসংগতি পাওয়া গেছে।

মোহাম্মাদীয়া ট্রেড ২২ টন স্টেইনলেস স্টিল সার্কেল ও এক্সকেভেটর গিয়ার আমদানির ঘোষণা দেয়। তবে ঘোষিত পণ্যের মধ্যে মাত্র ৩ দশমিক ৮ টন পাওয়া যায়। বিপরীতে পাওয়া যায় ২২ হাজার ১১৩ কেজি নাট, বল্টু ও স্ক্রু। এ চালানে সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ প্রায় ৩২ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, নিউ রনি এন্টারপ্রাইজের বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১২৩৬৭৮৯-এর চালানে ১৭ হাজার ৫৯২ কেজি নাট-বল্টু, ২ হাজার ৭৮৭ কেজি ভারী রোলিং বেয়ারিং এবং ২ হাজার ৩৩৬ কেজি রিভলভিং চেয়ারের গ্যাস লিফট সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এ চালানে সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ আনুমানিক ৪২ লাখ টাকা।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কাফ কর্পোরেশনের আরেকটি চালান নিয়ে। এনবিআরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কনটেইনারটি ইয়েলো লেনভুক্ত ছিল। শুল্ক ফাঁকির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর সিআইসি ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের এআইআর শাখা অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড ব্যবস্থায় কনটেইনারটি লক করে।

কায়িক পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখের আগেই গত ১৯ সেপ্টেম্বর কনটেইনারটি অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় বিল অব লেডিংয়ে উল্লেখ করা প্রকৃত সিল ভেঙে সেখানে অন্য সিল লাগানো হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনবিআর জানিয়েছে, আটটি চালানে ঘোষণার সঙ্গে প্রকৃত পণ্যের অসংগতি ও শুল্ক ফাঁকির চেষ্টার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।