চট্টগ্রাম নগরীতে হাসপাতালকেন্দ্রিক যানজট নিরসন ও পার্কিং ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। বারবার সতর্ক করা ও সংশোধনের জন্য সময় দেওয়ার পরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় ইবনে সিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ২০ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট ভবন মালিককে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে সংস্থাটির ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া একই অভিযানে খান ব্রাদার্স পেট্রোল পাম্পকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) চউকের অথরাইজড অফিসার-১ ও স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতে এ জরিমানা করা হয়।
চউক সূত্র জানায়, নগরীর মেহেদিবাগ থেকে প্রবর্তক হয়ে মির্জাপোল পর্যন্ত হাসপাতালকেন্দ্রিক যানজট নিরসনে বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ওই এলাকার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো পরিদর্শন করে পার্কিং ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সংশোধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গত ৬ আগস্ট ইবনে সিনা হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছিল চউক। কিন্তু দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় গত ১৩ অক্টোবর হাসপাতালটি পুনরায় পরিদর্শন করেন চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। এ সময় পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট ২৬টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করে চউক। সভায় হাসপাতালকেন্দ্রিক যানজট কমানো ও পার্কিং সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমি পিছু হটার লোক নই। আইন সবাইকে মানতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ার দায়িত্ব দিয়ে এই চেয়ারে বসিয়েছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব।’
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পার্কিং নিশ্চিত করতে হবে। রোগীদের সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন যানজটের দুর্ভোগে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। বারবার সতর্ক করার পরও যারা প্রয়োজনীয় সংশোধন করবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চউক চেয়ারম্যান বলেন, নগরীর যানজট নিরসন এবং নাগরিকদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে পার্কিং ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আর/ দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।