সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে নগরীর পাথরঘাটার শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ও শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দিরে এ পূজার আয়োজন করা হয়।
এবারের কুমারী পূজায় দেবীরূপে পূজিত হয় ছয় বছর বয়সি রাধেশ্রী দত্ত বৃন্দা, সাত বছর বয়সি অদিশ্রী কর ও ১১ বছর বয়সি ঋত্বিকা দাশ। রাধেশ্রী দত্ত বৃন্দা সেন্ট স্কলাস্টিকা’স কিন্ডারগার্টেন স্কুলের, ঋত্বিকা দাশ সেন্ট জন’স গ্রামার স্কুলের এবং অদিশ্রী কর বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষার্থী।
পূজার আনুষ্ঠানিকতায় কুমারীদের ফুল, চন্দন, বেলপাতা ও তুলসিপাতা নিবেদন করে মন্ত্রপাঠ ও স্তোত্রের মাধ্যমে দেবীবন্দনা করা হয়। দুপুরে পূজা শেষে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। এ সময় দেবীজ্ঞানে কুমারীদের প্রণাম করে শ্রদ্ধা জানান তাঁরা।
মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্যামানন্দ দাশ বলেন, তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সি এবং ঋতুমতী হয়নি—এমন কুমারীকে পূজার বিধান রয়েছে। শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনেই এবার তিন শিশুকে কুমারী হিসেবে পূজা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কুমারী পূজায় জাতি, ধর্ম ও বর্ণের কোনো ভেদাভেদ নেই। দেবীজ্ঞানে যেকোনো বর্ণের কুমারী পূজনীয়। এ পূজার দার্শনিক তাৎপর্য হলো পরমার্থ দর্শন ও অর্জন। ধর্মীয় দর্শন অনুযায়ী, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের সঙ্গে যুক্ত ত্রিশক্তির বীজ কুমারীর মধ্যে নিহিত রয়েছে বলে মনে করা হয়।
কুমারী পূজার পাশাপাশি মহা অষ্টমীতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় দেবীর বিহিত পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি। ভক্তরা ফুল, বেলপাতা ও নানা অর্ঘ্য নিবেদন করে দেবীর আশীর্বাদ কামনা করেন। অনেকে উপবাস ও ব্রত পালনের মধ্য দিয়েও দিনটি উদযাপন করেন।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।