চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছানকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় সাবেক সেনা ও র্যাব সদস্য সুমন মুন্সিসহ ছয়জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার (২১ অক্টোবর) অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়।
আটক অন্য পাঁচজন হলেন মিজানুর রহমান (২৯), জয়নাল উদ্দিন (২৮), মো. আব্বাস উদ্দিন (৩১), মো. ছলিম ওরফে সেলিম (৩০) ও দেলোয়ার হোসেন (৪০)।
বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্যবসায়ী এহছানকে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে অপহরণ করা হয়। এ সময় সুমন মুন্সিসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি র্যাবের পোশাক পরে তাঁকে তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে অপহরণকারীরা বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে এহছানের স্ত্রী ও দোকানের ব্যবস্থাপক মোজাফফর উদ্দিনের কাছে ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা না দিলে তাঁকে হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানায় মামলা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুমন মুন্সি (৩২) গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট ইউনিয়নের বাসিন্দা। দেলোয়ার হোসেনের (৪০) বাড়ি কক্সবাজার পৌরসভার দক্ষিণ কলাতলী এলাকায়। তিনি বর্তমানে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের খরলিয়া এলাকায় বসবাস করেন।
মো. ছলিম ওরফে সেলিম (৩০) কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬-এর সালবাগান ক্যাম্পের বাসিন্দা। মো. আব্বাস উদ্দিনের (৩১) বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নে।
জয়নাল উদ্দিন (২৮) কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের বাসিন্দা। মিজানুর রহমানের (২৯) বাড়ি কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল এলাকায়।
উদ্ধার হওয়া ব্যবসায়ী এহছান বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেম বাজারের ব্যবসায়ী। তিনি একই এলাকার তেলিয়াকাটা গ্রামের হাজী নুরুল কবিরের মেঝো ছেলে। দীর্ঘ ১২ বছর দক্ষিণ আফ্রিকার মোজাম্বিকে ব্যবসা করার পর দেশে ফিরে স্থানীয়ভাবে চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছিলেন তিনি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।