দক্ষিণ পূর্ব

মহানবমী: শুভ শক্তির জয় ও নারীশক্তির স্বীকৃতি

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:১৮ সকাল
পঠিত : ২৭
মহানবমী: শুভ শক্তির জয় ও নারীশক্তির স্বীকৃতি

ছবি

Degchibarictg

শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমী। শুভ ও অশুভের চিরন্তন লড়াইয়ে ন্যায়ের বিজয়, নারীশক্তির মর্যাদা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে প্রতিবছর আসে এই তিথি। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি মহানবমী মানুষকে অন্যায়, হিংসা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়।

শরতের নীল আকাশ, কাশফুলের দোলা আর ঢাকের বাদ্যে শুরু হওয়া দুর্গোৎসব এখন শেষের পথে। আর মাত্র এক দিন পর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। তবে মহানবমীর তাৎপর্য শুধু উৎসবের সমাপ্তির অপেক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি শক্তির আরাধনা, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের বিবেক জাগ্রত করারও দিন।

পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, দেবী দুর্গার হাতে মহিষাসুরের বধ অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ ও ন্যায়ের বিজয়ের প্রতীক। অন্যদিকে, রাবণের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জনে শ্রীরামচন্দ্রের অকালবোধনের কাহিনিও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের বার্তা বহন করে। এসব পৌরাণিক আখ্যানের মূল শিক্ষা হলো—অন্যায় ও অত্যাচার যত শক্তিশালীই হোক, ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমে তাকে পরাজিত করা সম্ভব।

মহানবমীতে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বিশেষ পূজা, মন্ত্রোচ্চারণ, পুষ্পাঞ্জলি ও হোম-যজ্ঞের মধ্য দিয়ে দেবীর আরাধনা করেন ভক্তরা। তাঁরা প্রার্থনা করেন শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ ও সবার মঙ্গল কামনায়।

মহানবমীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো নারীশক্তির যথাযথ স্বীকৃতি। দেবী দুর্গাকে শক্তি ও সাহসের প্রতীক হিসেবে পূজা করা হলেও বাস্তব সমাজে নারী নির্যাতন, যৌতুক, বাল্যবিবাহ ও বৈষম্যের মতো ঘটনা এখনো উদ্বেগজনক। তাই নারীর প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় শুধু পূজামণ্ডপে আরাধনা নয়, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে তাঁদের সমান অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষার সুযোগ এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

একই সঙ্গে দুর্নীতি, হিংসা, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, অহংকার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাও মহানবমীর অন্যতম শিক্ষা। অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার না করে সত্য, ন্যায় ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারই হতে পারে এই তিথির প্রকৃত তাৎপর্য।

দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধেরও উৎসব। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই উৎসব বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে কাছাকাছি আনে। তবে প্রকৃত সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য উৎসবের কয়েকটি দিনের আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও সারা বছর প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। কিন্তু দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের পাশাপাশি মানুষের মনের ভেতরে থাকা হিংসা, অহংকার, বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতারও বিসর্জন হওয়া উচিত। উৎসবের আলো নিভে গেলেও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস, মানবিকতা ও বিবেকের জাগরণ যেন অব্যাহত থাকে।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।