মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে জবাবদিহির অনুভূতি সব সময় অন্তরে ধারণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, “আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ায় কাউকে ভয় করা যাবে না। জীবনের প্রতিটি কাজ আখিরাতে জবাবদিহির অনুভূতি নিয়ে পরিচালনা করতে হবে। দুনিয়াতে বিশ্রাম নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই; বিশ্রাম হবে পরকালে।”
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম নগরের সাফা আর্কেড কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আয়োজিত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল এবং অগ্রসর কর্মীদের দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্যায়, অনিয়ম কিংবা অসত্যের কাছে মাথা নত করা যাবে না। সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা নিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মানুষের কল্যাণে কাজ করাকে জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীলতা মানে শুধু কোনো পদে অধিষ্ঠিত থাকা নয়, বরং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি এবং সমাজের অসংগতি দূর করতে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন, আচার-আচরণ ও কর্মের মাধ্যমে মানুষের সামনে উত্তম আদর্শ তুলে ধরতে হবে।
মাদক সমস্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে জামায়াতের আমির বলেন, মাদক সমাজকে ধ্বংস করছে। এর কারণে যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে এবং সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে। মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকেও বিপর্যস্ত করে। তাই তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করা জরুরি।
তিনি বলেন, সরকার এখনো মাদক নির্মূলে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না। মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ, কঠোর নজরদারি এবং সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সম্মিলিতভাবে মাদকবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
একটি নৈতিকতাভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষা শিবিরের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংগঠনের দায়িত্বশীল ও কর্মীদের জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা এবং সাংগঠনিক যোগ্যতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বাড়ে এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হয়।
তিনি দায়িত্বশীলদের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নেওয়া এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলা উদ্দীন সিকদারের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবদুল জব্বারের সঞ্চালনায় শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অঞ্চল টিমের সদস্য অধ্যক্ষ আমীরুজ্জামান এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা জামায়াতের আমির এস এন আবদুচ ছালাম।
এ সময় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম, সাংগঠনিক সেক্রেটারি আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী, বায়তুলমাল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. আবদুল হামিদ চৌধুরী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নুরুন্নবী, রফিকুল ইসলাম, মাস্টার নুরুছ ছালাম, ইউসুফ বিন আবু বক্কর, ইঞ্জিনিয়ার বোরহান উদ্দিন, জসিম উদ্দিন আজাদ, মাওলানা মুহিউদ্দীন ও মাওলানা বোরহান উদ্দিনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।