বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আজ শুক্রবার। মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এদিন দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। উৎসবকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এবার নগরীর ২৯৪টি এবং জেলার ১ হাজার ৬৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পূজার সূচি অনুযায়ী, শনি ও রোববার মহাসপ্তমী, সোমবার মহাষ্টমী এবং পরদিন মহানবমী উদযাপিত হবে। মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান ও পূজা, মহাষ্টমীতে অষ্টমী-নবমীর সন্ধিক্ষণে বিশেষ সন্ধিপূজা এবং মহানবমীতে দেবীর পূজার গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। এরপর বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হবে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। প্রচলিত ধর্মীয় ব্যাখ্যায় ঘোড়ায় আগমনকে ফসল ও শস্যহানির আশঙ্কার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। অন্যদিকে নৌকায় গমন শস্যবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে বলে বিশ্বাস করা হয়।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি ও বর্ধিত ছুটি মিলিয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়ার কথা রয়েছে।
হিন্দু পুরাণ অনুসারে, অসুররাজ মহিষাসুরকে পরাজিত ও বধ করার জন্য দেবতাদের সম্মিলিত শক্তিতে আবির্ভূত হন দেবী দুর্গা। দীর্ঘ যুদ্ধের পর দেবী মহিষাসুরকে বধ করে দেবলোক ও বিশ্বজগতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়ের এই আখ্যান দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধান তাৎপর্য।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়। মহালয়া থেকেই শুরু হয় দেবী দুর্গার আগমনের অপেক্ষা। এরপর থেকেই পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিমা নির্মাণ, সাজসজ্জা, আলোকায়ন ও অন্যান্য প্রস্তুতি চলতে থাকে।
এবারও চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বর্ণিল সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও নানা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজার দিনগুলোতে মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের প্রার্থনা, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। উৎসবকে নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর করতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব নয়, বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ উৎসব বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
আর /দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।