দক্ষিণ পূর্ব

সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা; প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৬

saiful
saiful
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:০৪ সকাল
পঠিত : ১
সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা; প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৬

ছবি দক্ষিণপূর্ব

Degchibarictg

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে প্রকাশ্যে গুলি করে তারেক হোসেন বাপ্পিকে হত্যা এবং তাপসির আলম শাওনকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মো. আরিফ হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ (১৮ অক্টোবর) রবিবার সংবাদ সম্মলের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বাড়বকুণ্ডের মধ্যম মাহমুদাবাদ এলাকার দিঘীর নালা, ফকির আহম্মদের নতুন বাড়ির ইসমাইল হোসেন প্রকাশ বিকষুর ছেলে মো. আরিফ হোসেন (২৯) অলিনগর চৌকিদার বাড়ির মৃত নুর আলমের ছেলে ফখরুল ইসলাম (৩২) নডালিয়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে আব্দুল মান্নান (২৮) অলিনগর নতুন বদু বাড়ির মো. মোজ্জামেল হকের ছেলে মো. ইফতেখার (৩৫) মুরাদপুরের হাসনাবাদ এলাকার জিয়াজি হুজরের বাড়ির মো. নজরুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম জাবেদ (২৫) এবং মধ্যম মাহমুদাবাদ এলাকার দিঘীর নামা এলাকার মৃত জহির ইসলামের ছেলে নুর আহাম্মদ রনি।

জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম  বলেন, রাতে খাবার খেয়ে তারেক হোসেন বাপ্পি তাঁর বন্ধু ইমনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ওই এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আগে থেকে ওত পেতে থাকা অভিযুক্তরা তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। পরে বাপ্পি ও তাঁর বন্ধুকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়।

একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেন বাপ্পিকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেন। অন্য অভিযুক্তরাও তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় ইমন কৌশলে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরে বাপ্পির বুকে গুলি করা হয়। অন্য এক অভিযুক্তও তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

গুলির শব্দ শুনে বাপ্পিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন তাপসির আলম শাওন। এ সময় তিনিও হামলার শিকার হন। তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে দুজনই গুরুতর আহত অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকেন। হামলাকারীরা তাঁদের ওপর আরও আঘাত করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তাঁরা।

তদন্তে প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পারে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিহত বাপ্পির সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযুক্তদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে বাপ্পি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সামাজিকভাবে ও মৌখিকভাবে তাঁদের সতর্ক করেছিলেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, পূর্ববিরোধের জেরে বাপ্পিকে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের পথে বাধা মনে করতেন অভিযুক্তরা। এ কারণে তাঁর ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তাঁরা। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনার দিন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আগে থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। পরে বাপ্পির মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁকে গুলি করে হত্যা করেন। এ সময় বাপ্পিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসা শাওনও তাঁদের সশস্ত্র হামলার শিকার হন।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি আরিফ হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।