দক্ষিণ পূর্ব

১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:০৬ সকাল
পঠিত : ২১
১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

ছবি

Degchibarictg

দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নতুন বিধান কার্যকর করছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। আগামী ১ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্যপণ্যের জন্য নিবন্ধন অথবা লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক হচ্ছে। ফলে রেস্তোরাঁ, বেকারি, খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, আমদানিকারক থেকে শুরু করে রাস্তার পাশের খাবারের দোকানগুলোকেও নতুন নিয়মের আওতায় আসতে হবে।

গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর আওতায় প্রণীত এ প্রবিধানমালায় খাদ্য ব্যবসার ধরন অনুযায়ী নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার জন্য নিবন্ধন এবং চার শ্রেণির বিশেষায়িত খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন বিধানের আওতায় আসছে যেসব ব্যবসা

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রেস্তোরাঁ, বেকারি, পেস্ট্রি শপ, ফলের রসের দোকান, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, মিষ্টির দোকান, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী এবং দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারীদের নিবন্ধন নিতে হবে। একইভাবে রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি, পেঁয়াজুসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রেতারাও এ বিধানের আওতায় পড়বেন।

এ ছাড়া খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ, পাইকারি খাদ্য ব্যবসা এবং নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য আমদানি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যে লাগবে লাইসেন্স

স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য এবং প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্যের মতো বিশেষায়িত পণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মজুদ, আমদানি ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স নিতে হবে।

শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি বিশেষ খাবারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বিধান মানতে হবে। পাশাপাশি জৈব খাদ্য, বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য, অভিনব খাদ্য ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধন বা লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।

আবেদন যেভাবে, ফি কত

বিএফএসএর তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত ফি পরিশোধ ও প্রবিধানমালায় উল্লেখিত শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য ৫.১ নম্বর ফরম এবং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ নম্বর ফরমে আবেদন জমা দিতে হবে। প্রাথমিকভাবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে আবেদন করা যাবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে শতভাগ অনলাইন আবেদনব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রবিধানমালা অনুযায়ী, প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনা মূল্যে করা হবে। তবে বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্সের ফি নির্ধারণ করা হবে প্রতিষ্ঠানের আয়তন অনুযায়ী। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ফি ১০ হাজার টাকা। আর ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্সের ফি ৬০ হাজার টাকা।

নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে।

পণ্যের প্যাকেটে থাকবে নিবন্ধন নম্বর

নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এর ফলে ভোক্তারা পণ্যের প্যাকেট থেকেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন। কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ থাকলে ওই নম্বর উল্লেখ করেও অভিযোগ জানানো যাবে।

নিয়ম না মানলে দণ্ডনীয় অপরাধ

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, সেগুলো প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

তাই নতুন নিয়ম কার্যকরের আগেই প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে খাদ্য ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিএফএসএর আশা, নতুন প্রবিধানমালা কার্যকর হলে খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ভোক্তার অধিকার সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ উদ্যোগ।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।