দক্ষিণ পূর্ব

‘সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় ট্রাইব্যুনালে নয়, আইন মন্ত্রণালয়ে লেখা হয়েছিল’

মনির ফয়সাল
মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ০৭:২৯ বিকাল
পঠিত : ১৭
‘সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় ট্রাইব্যুনালে নয়, আইন মন্ত্রণালয়ে লেখা হয়েছিল’
Degchibarictg
দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডের রায় ট্রাইব্যুনালে নয়, আইন মন্ত্রণালয়ে লেখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তার ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাকা চৌধুরীর বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন এই অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় হুম্মাম কাদের ছাড়াও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী, আরেক ছেলে এবং মেয়ে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে হুম্মাম বলেন, শেখ হাসিনার লক্ষ্য ছিল তার বিরোধীদের সরিয়ে দেওয়া। বাবা (সাকা চৌধুরী) তার আক্রোশের শিকার। গুম, খুন, হত্যা করে টিকে থাকাই ছিল হাসিনার উদ্দেশ্য।

হুম্মাম জানান, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাবা (সাকা চৌধুরী) পাঞ্জাব বিশ্বদ্যিালয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। এই বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে চারজন বিদেশী সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে আসার জন্য অনুমতি চেয়েছিলেন। তারা হলেন- মুহিব আরজুমান খান, আম্বার হারুন সায়গাল, ইসহাক খান খাকওয়ানী এবং রিয়াজ আহমেদ নূহ। কিন্তু, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোপন বার্তার মাধ্যমে ওই চারজন সাক্ষীকে দেশে আসতে বাধা দেয়া হয়েছিল। তাদের ভিসা প্রাপ্তিতেও বাধা দেয়া হয়েছিল।

সেই সাক্ষীদের আসতে না দেওয়ার পেছনে তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু সাইফার মেসেজ জড়িত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে অনেক মানুষ এখন কথা বলতে, সাহস দেখাতে শুরু করেছেন। অনেকেই প্রমাণ নিয়ে আমাদের কাছে আসছেন। এগুলোর মধ্যে একটা বড় জিনিস আমাদের হাতে পৌঁছেছে। এটি হলো, বাংলাদেশের ফরেন মিনিস্ট্রি যখন বিদেশি দূতদের কাছে কোনো মেসেজ পাঠায়, এই মেসেজগুলোকে সাইফার মেসেজ বলা হয়। এই সাইফারগুলোতে বেশিরভাগ সময় কোডেড সিক্রেট থাকে। এই ধরনেরই একটা সাইফার মেসেজ আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে।

মেসেজটির বর্ণনা দিয়ে হুম্মাম বলেন, সাইফার মেসেজের মধ্যে উপরোক্ত সাক্ষী চারজনের নাম উল্লেখ করে বলা আছে, কোনোভাবেই তাদেরকে যেন ভিসা না দেওয়া হয়। এই সাইফার মেসেজ এর মাধ্যমে প্রমাণ হচ্ছে, আমাদের সঙ্গে একটা খুব বড় অন্যায় হয়েছে। আমার বাবাকে তারা কোনোভাবেই ফেয়ার জাস্টিসের ধারেকাছেও নিতে পারেনি। আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। এটা একটা জুডিশিয়াল মার্ডার ছিল এবং এটার সঙ্গে আওয়ামী রেজিমের সরকার সরাসরি জড়িত ছিল।

তিনি বলেন, আমরা বর্তমান ফরেন মিনিস্ট্রিকে একটি আইনি নোটিশ পাঠাবো। আমরা তাদের কাছে দাবি করছি, এই সাইফার মেসেজগুলোকে ডি-ক্লাসিফাই (উন্মুক্ত) করে দেওয়া হোক। আমার বাবার ট্রায়ালের সঙ্গে জড়িত যতগুলো সাইফার মেসেজ আছে, প্রতিটাকেই যেন ডি-ক্লাসিফাই করে দেওয়া হয় এবং সেগুলোকে যেন আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, সব গোপন বার্তা হস্তান্তরে এবং প্রকাশের জন্য বর্তমান সরকার ও আদালতের সহযোগিতা চাইছি। এছাড়া আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব। ওইসব গোপনবার্তা হাতে পেলে আমারা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে নির্দোষ প্রমাণে আদালতে যাব।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালে ১ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। পরে এই রায় উচ্চ আদালতও বহাল রাখেন।

পরে ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর রাতে পুরোনো ঢাকায় তৎকালীন কেন্দ্রীয় কারাগারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ওইদিন একই সময়ে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন সেক্রেটারি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদেরও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

এমএইচএফ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।