দক্ষিণ পূর্ব

আদালতে তোলার সময় আখতারুজ্জামান

অন্যায়ের প্রতিবাদ করার আমাকে হাতকড়া পড়ানো হয়েছে

Jobaer Raihan Jihan
প্রকাশ : ৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:০৯ সকাল
পঠিত : ২২
অন্যায়ের প্রতিবাদ করার আমাকে হাতকড়া পড়ানো হয়েছে

প্রিজনভ্যানে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক

আদালতে প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর সময় হেলমেট পরানো নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলাসহ কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার মামলায় গ্রেপ্তার মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পুলিশের গুলি খাবো। তবু হেলমেট পরবো না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করার আমাকে হাতকড়া পড়ানো হয়েছে ।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। 

এ মামলায় শনিবার প্রিজনভ্যানে করে আখতারুজ্জামানকে সিএমএম আদালতে নেওয়া হয়। তবে প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর সময় নিরাপত্তার স্বার্থে তার মাথায় হেলমেট ও হাতে হাতকড়া পরাতে যান দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু হেলমেট পরাতে আপত্তি জানান তিনি। 

আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমি হেলমেট পরবো না। আমাকে অবৈধভাবে হেলমেট পরানো হচ্ছে। আমি আওয়ামী লীগের না। এখানে আমি গুলি খাবো পুলিশের। কিন্তু হেলমেট পরবো না। হেলমেট এখন আওয়ামী লীগের শাসন হয়েছে।’ একইসঙ্গে হাতে হাতকড়া পরানোর কথা জানিয়ে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন অন্যায়ের প্রতিবাদ করার আমাকে হাতকড়া পড়ানো হয়েছে ।

তিনি বলেন, ‘হাতকড়া পরান। ১০০ বার হাতকড়া পরান। অসুবিধা নেই।’

হাতকড়া পরানো শেষে দুই হাত উঁচিয়ে আখতারুজ্জামান জানান, ‘আমার সৃষ্ট দেশে আমাকে হ্যান্ডকাফ পরানো হচ্ছে। এই যে জোর করে হেলমেট পরাচ্ছে।’

তখন পাশ থেকে একজন পুলিশ সদস্য বলেন, ‘স্যার, আপনার নিরাপত্তার জন্যই হেলমেট পরানো। আপনার নিরাপত্তার জন্য।’

আপত্তি জানানোর পরও হেলমেট পরিয়ে প্রিজনভ্যান থেকে নামানো হয় আখতারুজ্জামানকে। এ সময় হেলমেটটি ছুড়ে ফেলেন তিনি। 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা ও মারধরের অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়। শুক্রবার মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব। 

এজাহারে বলা হয়, ১ অক্টোবর সৌদিআরবের মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের (বিজি-৩৩৮) লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। ওই সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও মারধরের হুমকি দেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। এমনকি বিমানমন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করা হয়। 

কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হন তিনি। একসময় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি থাকলেও দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে পঞ্চমবারের মতো বহিষ্কার করা হয়। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন তিনি। 

দক্ষিণপূর্ব/এসএস

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।