দক্ষিণ পূর্ব

আজ ‘বয়ফ্রেন্ড’ দিবস

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:৫৯ রাত
পঠিত : ৩৩
আজ ‘বয়ফ্রেন্ড’ দিবস

ছবি সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের দিবস পালিত হয়। এর মধ্যে কিছু দিবস আনুষ্ঠানিক, আবার কিছু দিবস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক ও অনানুষ্ঠানিক। তেমনই একটি দিন ‘ন্যাশনাল বয়ফ্রেন্ড ডে’। প্রতিবছর ৩ অক্টোবর দিনটি পালিত হয়। ২০২৬ সালে দিনটি পড়েছে শনিবার।

মূলত প্রেমিক বা বয়ফ্রেন্ডকে ঘিরেই এই দিবসের আয়োজন। এদিন অনেকে প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটান, ভালোবাসার বার্তা দেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করেন কিংবা ছোটখাটো উপহারের মাধ্যমে সম্পর্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কীভাবে শুরু

‘ন্যাশনাল বয়ফ্রেন্ড ডে’র নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠাতা বা শুরুর ঘটনা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। বিভিন্ন সূত্রে ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের উদযাপন শুরু হওয়ার কথা বলা হলেও এর নির্দিষ্ট ও যাচাই করা কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।

তবে ২০১০-এর দশকে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ দিনটি ঘিরে পোস্ট ও হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে এটি অনলাইনভিত্তিক একটি জনপ্রিয় অনানুষ্ঠানিক দিবসে পরিণত হয়।

কেন ৩ অক্টোবর?

৩ অক্টোবর তারিখটি কেন বয়ফ্রেন্ড ডে হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। তবে জনপ্রিয় সিনেমা ‘Mean Girls’-এর একটি দৃশ্যে ৩ অক্টোবর তারিখটির উল্লেখ রয়েছে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিনটি নিয়ে আলাদা একটি ট্রেন্ড তৈরি হয়।

তবে ‘ন্যাশনাল বয়ফ্রেন্ড ডে’ ঠিক এই সিনেমার কারণেই ৩ অক্টোবর শুরু হয়েছিল—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

যেভাবে উদযাপন করা যায়

বয়ফ্রেন্ড দিবস উদযাপনের নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। প্রিয় মানুষটির প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও যত্ন প্রকাশ করাই এ দিনের মূল বিষয়।

প্রিয় মানুষের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো, কফিশপে বসে গল্প করা, একসঙ্গে পছন্দের খাবার খাওয়া কিংবা কোথাও ঘুরতে যাওয়া হতে পারে দিনের আয়োজন। চাইলে ছোট্ট কোনো উপহারও দেওয়া যায়। বই, ডায়েরি, মগ, ঘড়ি বা পারফিউমের মতো উপহার হতে পারে তার পছন্দ অনুযায়ী।

তবে উপহারের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আন্তরিকতা। একটি সুন্দর বার্তা, প্রশংসা কিংবা কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানানোও প্রিয় মানুষটিকে আনন্দ দিতে পারে।

আনুষ্ঠানিক নয়, ভালোবাসার উপলক্ষ

‘ন্যাশনাল বয়ফ্রেন্ড ডে’ কোনো সরকারি ছুটি বা আনুষ্ঠানিক জাতীয় দিবস নয়। এটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর একটি অনানুষ্ঠানিক উদযাপন। তাই দিনটি পালনে বড় আয়োজন কিংবা দামি উপহারের প্রয়োজন নেই।

ব্যস্ততার মধ্যেও প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো, পুরোনো স্মৃতি মনে করা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা—এসব ছোট উদ্যোগই দিনটিকে বিশেষ করে তুলতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ট্রেন্ড হিসেবে শুরু হলেও প্রতি বছর ৩ অক্টোবর বয়ফ্রেন্ড ডে ঘিরে মানুষের আগ্রহ দেখা যায়। বিশেষ কোনো দিনের চেয়ে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আন্তরিকতা, পারস্পরিক সম্মান ও যত্নই যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ—এই বার্তাই হতে পারে দিনটির সবচেয়ে সুন্দর উদযাপন।

আর/ দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।