দক্ষিণ পূর্ব

এনসিপির নেতৃত্বে বড় রদবদলের আভাস, ‘সুপার ইলেভেন’ থেকে ‘সুপার সিক্স’

দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:০৭ সকাল
পঠিত : ২২
এনসিপির নেতৃত্বে বড় রদবদলের আভাস, ‘সুপার ইলেভেন’ থেকে ‘সুপার সিক্স’

ছবি

Degchibarictg

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ১১টি পদ কমিয়ে ছয়টিতে সীমিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তবে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন নিজ নিজ পদে বহাল থাকছেন।

দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার অথবা বুধবার পুনর্গঠিত কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। নেতাদের সাংগঠনিক তৎপরতা, দল গঠনে ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করেই এ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন কমিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এনসিপির পরিচিত ‘সুপার ইলেভেন’ কাঠামোর পরিবর্তে ছয় সদস্যের শীর্ষ নেতৃত্বের কাঠামো ‘সুপার সিক্স’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক ও আখতার হোসেনকে সদস্যসচিব করে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। শুরু থেকেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মুখ্য সমন্বয়ক, হাসনাত আবদুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং সারজিস আলম উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলটিতে যোগ দিয়ে মুখপাত্রের দায়িত্ব পান সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

দলীয় সূত্রের দাবি, দল গঠন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইস্যুতে এই চার নেতার ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের সাংগঠনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এনসিপির তিনজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যসংখ্যা ১৬। আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব পদাধিকারবলে এই পর্ষদের সদস্য। পুনর্গঠিত কাঠামোতেও তাঁদের পাশাপাশি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন।

রাজনৈতিক পর্ষদের অন্য ১০ সদস্যকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁরা হলেন আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিকুর রহমান মোজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহউদ্দিন সিফাত, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম।

দলীয় সূত্র জানায়, যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্যসচিবদের নির্দিষ্ট সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাঁরা মূলত দলের সহযোগী সংগঠন ও বিভিন্ন সেলের কার্যক্রম তদারক করবেন।

এনসিপির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোয় আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, মুখ্য সমন্বয়ক, দুই মুখ্য সংগঠক, মুখপাত্র, দুই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, দুই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কসহ মোট ১১টি শীর্ষ পদ রয়েছে। এই কাঠামোই ‘সুপার ইলেভেন’ নামে পরিচিত।

পুনর্গঠনের মাধ্যমে শীর্ষ নেতৃত্বের পদ ছয়টিতে সীমিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এর ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আসবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত জানুয়ারিতে এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের আলোচনা শুরু হয়। সে সময় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে দলের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের শুরুতে দলের প্রথম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছিল। তবে তখন কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে দলের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরে দলে অনেকেই যুক্ত হওয়ায় তাঁদের দায়িত্ব দিতে নতুন কিছু পদ সৃষ্টি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কাঠামো এখন পুনর্গঠন করা প্রয়োজন বলে দল মনে করছে।

নেতাদের কার্যক্রম মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পরিবর্তন আনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দলের অনেক নেতা নিজেদের কাজের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। আবার কেউ কেউ প্রত্যাশা অনুযায়ী সক্রিয় ছিলেন না। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আর/ দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।