দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রাম বন্দরে গমবাহী জাহাজ পরিদর্শনে খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যশস্যের মান নিয়ে আপস নয়

দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৩০ দুপুর
পঠিত : ২৯
খাদ্যশস্যের মান নিয়ে আপস নয়

ছবি

Degchibarictg
খাদ্যশস্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে পরীক্ষার নির্ধারিত মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই নিম্নমানের খাদ্যশস্য গ্রহণ বা সরবরাহের সুযোগ রাখা যাবে না। খাদ্য আমদানি থেকে শুরু করে পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আজ রোববার চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা বহির্নোঙরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা গমবাহী জাহাজ এমভি স্প্রিং স্কাই (MV SPRING SKY) পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে দেশের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। নিজের কাজ, চেষ্টা ও মেধা দিয়ে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

আমদানিকৃত খাদ্যশস্যের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, খাদ্য আমদানি, পরিবহন, সংরক্ষণ, পরীক্ষণ ও বিতরণের প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। আমদানিকৃত গমসহ খাদ্যশস্য নির্ধারিত মান বজায় রেখে যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। কোনো পর্যায়ে দায়িত্ব পালনে অবহেলা হলে সামগ্রিক খাদ্য সরবরাহব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

গমের গুণগত মান যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে আফরোজা খানম বলেন, খাদ্যশস্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্যারামিটার ও মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে নিম্নমানের খাদ্যশস্য গ্রহণ বা সরবরাহের সুযোগ না থাকে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সততা, পেশাদারত্ব ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক দায়িত্ব। জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সবাইকে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। খাদ্যশস্যের মান যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি। কারণ এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। খাদ্য ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন এবং জনগণের কাছে নিরবচ্ছিন্নভাবে খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে এ খাতকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

সাধারণ মানুষের খাদ্যচাহিদা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের জীবনযাত্রা, খাদ্যের প্রাপ্যতা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যাগুলো অনুধাবন করা গুরুত্বপূর্ণ। দেশের কোনো মানুষ যেন খাদ্যসংকটে না পড়েন এবং প্রত্যেকের কাছে সময়মতো খাদ্য পৌঁছে দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই সবাইকে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি সম্মিলিত জাতীয় দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে দেশপ্রেম, সততা ও পেশাগত নিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

এ সময় খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আর 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।