চট্টগ্রাম নগরের লালদিঘীপাড় এলাকার অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখার ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। আত্মসাৎ করা অর্থে হাটহাজারীতে গড়ে তোলা হয়েছে ‘ইশরাত এগ্রো’ নামে গরুর খামার। এ ঘটনায় ব্যাংকটির ক্যাশ ইনচার্জ ও তাঁর এক সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এর উপপরিচালক মো. আল আমিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খামারটিতে রয়েছে ৫০ থেকে ৬০টি উন্নত জাতের গরু।
মামলার আসামিরা হলেন অগ্রণী ব্যাংকের পূর্ব করপোরেট শাখার সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং তাঁর সহযোগী ব্যবসায়ী কর্ণফুলীর বাসিন্দা মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫)।
দুদকের এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ৯ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের ভল্ট থেকে কৌশলে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে কামরুল হোসেনের বিরুদ্ধে। ভল্ট ও নগদ অর্থের দায়িত্বে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি এ অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থ সরানোর কৌশল হিসেবে এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিলের মধ্যে ১০০ টাকা ও তার চেয়ে কম মূল্যমানের নোট রাখা হতো বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি হিসাবের খাতায় তথ্য সমন্বয় করে ভল্টে পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে, এমন চিত্র তুলে ধরা হতো। পরে সরিয়ে নেওয়া টাকা সহযোগী তানভীরের কাছে হস্তান্তর করা হতো বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, আত্মসাৎ করা অর্থে হাটহাজারী উপজেলার উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত এগ্রো’ নামে গরুর খামার গড়ে তোলা হয়। খামারটির দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন তানভীর। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেখানে ৫০ থেকে ৬০টি উন্নত জাতের গরু রয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, গত ৯ আগস্ট ব্যাংকের নিয়মিত লেনদেন শেষে হিসাব মেলাতে গিয়ে ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি ধরা পড়ে। পরদিন ১০ আগস্ট ব্যাংকের চট্টগ্রাম জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদের নির্দেশে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বিষয়টি দুদকের তদন্তের আওতায় আসে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র কমিশনের কাছে দেওয়া হয়।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনের পর দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এর উপপরিচালক ও মামলার বাদী মো. আল আমিন বলেন, ব্যাংকের ভল্ট থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের অন্য কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা বাইরের কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরএইচ/
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।