বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সিসিইএর ৩১তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) প্রকল্পের আওতায় এনসিটি ও ওসিওয়াই পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে ১৫ বছরের খসড়া কনসেশন চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে কোন বিদেশি অপারেটরকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, বিজ্ঞপ্তিতে তা উল্লেখ করা হয়নি।
তবে শুরু থেকেই এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়ে আসছে। গত জুনের প্রথম সপ্তাহে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় সরকার। পরে এ প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিম গঠন করে।
বন্দর চেয়ারম্যান গত জুলাইয়ে জানিয়েছিলেন, এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে আলোচনায় দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
চট্টগ্রাম বন্দরের চালু থাকা চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরে হ্যান্ডলিং হওয়া মোট কনটেইনারের ৪৪ শতাংশ এই টার্মিনালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
২০২৪ সালের ৭ জুলাই থেকে এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল)। এরপর থেকে টার্মিনালটিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ এর আগেও নেওয়া হয়েছিল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ও সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) কাঠামোর আওতায় ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করে। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিটি বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এরপর নতুন সরকার গত ৪ জুন ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়।
এদিকে, বিদেশি অপারেটরের হাতে এনসিটি দেওয়ার বিরোধিতা করে চট্টগ্রামে শ্রমিক ও বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন করে আসছে। চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা দাবি করছেন, বহুজাতিক কোম্পানিকে টার্মিনাল ইজারা দেওয়া হলে সরকার আয় থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম গত ১৯ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিদেশি অপারেটরের হাতে এনসিটি দেওয়া হলে চট্টগ্রাম বন্দর লোকসানের দিকে যেতে পারে এবং দক্ষ কর্মশক্তি হারানোর পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
চট্টগ্রামের শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)ও এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, এ ধরনের উদ্যোগ জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ, কর্মসংস্থান, শ্রমিকদের অধিকার এবং ভবিষ্যতে বন্দরের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিদেশি অপারেটরকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।