দক্ষিণ পূর্ব

বোয়ালখালীতে মহালয়া উদযাপন, মেধস আশ্রমে ভক্তদের ভিড়

saiful
saiful
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৪১ দুপুর
পঠিত : ২৬
বোয়ালখালীতে মহালয়া উদযাপন, মেধস আশ্রমে ভক্তদের ভিড়
Degchibarictg

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর ঐতিহাসিক মেধস আশ্রমে উদযাপিত হয়েছে মহালয়া। দুর্গাপূজার উৎপত্তিস্থল হিসেবে পরিচিত করলডেঙ্গা সন্ন্যাসী পাহাড়ের এ আশ্রমে দিনভর ভিড় করেন ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় দেবীপক্ষের।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন আশ্রমের অধ্যক্ষ ও সেবায়েত শ্রীমৎ দীপানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ। পরে শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ, চণ্ডীপূজা ও যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। দেবীর আগমনী বার্তায় সকাল থেকেই আশ্রমে আসতে থাকেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। দুপুরে তাঁদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

মহালয়া উপলক্ষে আশ্রমে আসা দর্শনার্থী পুষ্পিতা দে বলেন, ‘মহালয়া আমাদের কাছে ভক্তি ও বিশ্বাসের এক বিশেষ দিন। এই দিনে মেধস আশ্রমে এসে চণ্ডীপাঠ শোনা এবং দেবী দুর্গাকে স্মরণ করতে পারাটা অন্য রকম অনুভূতি। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা আমাদের মনে আনন্দ ও আশার সঞ্চার করে।’

আরেক দর্শনার্থী জয় চৌধুরী বলেন, ‘মেধস আশ্রমের সঙ্গে আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মহালয়া উপলক্ষে এখানে ভক্তদের উপস্থিতি এবং পূজার আয়োজন দেখে ভালো লাগছে। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে আমাদের ধর্মীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে সাহায্য করে। সবার মঙ্গল কামনা করছি।’

সনাতন ধর্মীয় আখ্যান অনুযায়ী, রাজ্য হারিয়ে রাজা সুরথ এবং স্বজনদের দ্বারা বিতাড়িত সমাধি বৈশ্য আশ্রয় নিয়েছিলেন মেধস মুনির আশ্রমে। তাঁদের দুর্দশা দেখে মেধস মুনি দুর্গাপূজার পরামর্শ দেন। পরে তাঁর নির্দেশনা অনুসারে মৃন্ময়ী প্রতিমা তৈরি করে দুর্গাপূজা করেন রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য। তাঁদের পূজার কাহিনি দুর্গাপূজার প্রচলনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

গবেষক সচ্চিদানন্দ রায় চৌধুরীর তথ্যমতে, প্রায় ১৪৩ বছর আগে বেদানন্দ স্বামী বিভিন্ন শাস্ত্র অধ্যয়ন ও দৈবক্ষমতার মাধ্যমে এ স্থানকে মেধস মুনির আশ্রম হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর থেকে বোয়ালখালীর করলডেঙ্গা পাহাড়ের এ আশ্রমে সাড়ম্বরে মহালয়া উদযাপিত হয়ে আসছে।

ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক তাৎপর্যের কারণে মেধস আশ্রম সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হওয়ায় দুর্গাপূজাকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ।

এসআই/দক্ষিণপূর্ব

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।