দক্ষিণ পূর্ব

যৌথ অভিযান নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিত প্রক্রিয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৩৭ সকাল
পঠিত : ২৩
যৌথ অভিযান নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিত প্রক্রিয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

দেশে যৌথ অভিযানের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে এ কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও জোরদার করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির জন্য পরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর নির্মাণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩ দশমিক ৪২৮ একর, অর্থাৎ প্রায় ১১ বিঘা জমি সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে খিলগাঁওয়ে পরিচালিত আনসার সদর দপ্তরে জায়গার সংকট রয়েছে। পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এসব সমস্যা দূর করতে তেজগাঁওয়ে আধুনিক ও বৃহৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার ও ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য রয়েছেন। এছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত সদস্য মিলিয়ে এটি দেশের সর্ববৃহৎ ফোর্স।

কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের আবাসন সংকট নিরসনে ডরমেটরি ও ব্যারাক নির্মাণের পাশাপাশি ঢাকার আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরেও অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবি-দাওয়া পূরণে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে শুধু প্রত্যাহার করা হচ্ছে না, যথাযথ বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী ফৌজদারি মামলাও করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না।’

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যানজট ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে এবং সড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরছে।

রাস্তা খনন ও নির্মাণকাজের কারণে যানজট কমাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, পুরো রাস্তা একসঙ্গে কেটে কাজ না করে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ শেষ করতে হবে এবং কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়ক পুনর্নির্মাণ করতে হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ পিএসসি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আর /দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।