সোমবার বিকেলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এয়ারলাইন্সগুলো এসব ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন করে আরও ফ্লাইট বাতিল করা হলে তা জানানো হবে।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি চলাচলকারী ফ্লাইট রয়েছে ৯টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি এবং রিয়াদ এয়ার ও সৌদিয়ার তিনটি করে ফ্লাইট রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ইনডিগোর ১৬টি, সালামএয়ারের তিনটি, ইজিপ্টএয়ারের একটি, এমিরেটসের নয়টি, কাতার এয়ারওয়েজের পাঁচটি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের পাঁচটি ফ্লাইট রয়েছে।
গত শনিবার রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত হন। আহত হন ৩০৮ জন। নিহত অন্যদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন এবং ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
এর রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার আবারও বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় হুতিরা। এতে এক পাকিস্তানি প্রবাসী নিহত হন এবং আহত হন আরও ১১ জন।
হুতি গোষ্ঠী জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে বিমানবন্দরটিতে হামলা চালানো হয়েছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, পূর্ব সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও দাম্মাম বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হয়েছে।
পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর ছাড়া সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু বলে সতর্ক করেছেন ইয়াহিয়া সারি।
এর আগে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেন সরকারের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর ওই বছরের ২ অক্টোবর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।