রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় এসব অভিযোগ করেন ধ্রুব রাঠী। তবে তার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতাও নিশ্চিত করা যায়নি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির জন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রস্তাবিত বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কথা ছিল ধ্রুব রাঠীর। ওই কর্মসূচির আগেই হরিয়ানার গুরুগ্রামে নিজের বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ধ্রুব রাঠী লেখেন, তাকে আটক বা গ্রেপ্তার নয়, বরং অপহরণ করা হয়েছিল।
ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ১০ অক্টোবর সকালে তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় তার মা দরজা খুললে কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ির ভেতরে ঢোকেন। তাদের কারও গায়ে পুলিশের পোশাক বা নামফলক ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
ধ্রুব রাঠীর অভিযোগ, প্রায় ২০ জন ব্যক্তি হঠাৎ বাড়িতে ঢুকে তাকে তুলে নিয়ে যান। শোবার ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
তিনি বলেন, ‘আমি এই ঘটনাকে অপহরণ বলছি, কারণ এটি কোনো গ্রেপ্তার ছিল না।’
তার আরও অভিযোগ, আটকের পর তাকে আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গুরুগ্রামে নিজের বাড়ি থেকে ধ্রুব রাঠীকে আটক করা হয়। পরে রাতভর আটকে রাখার পর রোববার ভোররাত ৩টার দিকে তাকে মুক্তি দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে।
জন্তর মন্তরে সিজেপির প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে এ ঘটনা ঘটে। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনের ডাক দেয় দলটি।
তবে ধ্রুব রাঠীকে আটকের কারণ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ভিডিওবার্তায় নিজের ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েও কথা বলেন ধ্রুব রাঠী। এ সময় তিনি নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট দেখান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি ভারতের নাগরিক। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমারও সমান অধিকার রয়েছে।’
ধ্রুব রাঠীর দাবি, বিক্ষোভস্থলে গেলে তাকে আটক করা হতে পারত। কিন্তু কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে তিনি বেআইনি বলে মনে করেন।
ভিডিওবার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনাও করেন ধ্রুব রাঠী। তার অভিযোগ, দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ধ্রুব রাঠী বলেন, দেশের স্বার্থে সত্য কথা বলা এবং উন্নত নির্বাচনব্যবস্থার দাবি জানানোর কারণে একজন নাগরিককে এভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে যদি এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তাহলে আপনার সঙ্গেও ঘটতে পারে।’
এ ঘটনায় তার পাশে দাঁড়ানো কর্মী ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান ধ্রুব রাঠী। বিশেষ করে আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
ধ্রুব রাঠী বলেন, তাকে চুপ করানোর চেষ্টা করা হলেও দেশের বিভিন্ন বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরা অব্যাহত রাখবেন তিনি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।