বুধবার ০২১২ জিএমটিতে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৩৩ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৯৪ দশমিক ৩৪ ডলারে দাঁড়ায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছয় মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আশাবাদ কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। আগস্টের শুরুর দিকের তুলনায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে এখন ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে হামলা চালানোর পর আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবও সংঘাতের আরও গভীরে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে হরমুজ প্রণালির আশপাশে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিকেও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত যত দীর্ঘায়িত ও বিস্তৃত হবে, ততই তেলের বাজারে ঝুঁকির মূল্য বাড়তে থাকবে। সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি-প্রিমিয়াম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের প্রধান জলপথগুলোতে হামলার কারণে এরই মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে কিছু তেল রপ্তানির চেষ্টা করলেও দেশটির নিজস্ব স্থাপনাগুলো হামলার মুখে পড়ায় সেই উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের স্বাভাবিক প্রবাহ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের পরবর্তী গতিপথের ওপরই এখন অনেকটা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের স্থিতিশীলতা।
আর
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।