দক্ষিণ পূর্ব

কলম থেকে ক্যানভাস, ক্যানভাস থেকে করপোরেট টেবিল

Istiyak
প্রকাশ : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩৬ দুপুর
সর্বশেষ আপডেট : ১ সপ্তাহ আগে
পঠিত : ২৭৪
কলম থেকে ক্যানভাস, ক্যানভাস থেকে করপোরেট টেবিল

ছবি: দক্ষিণপূর্ব

একজন মানুষকে সাধারণত একটি পরিচয়েই আমরা মনে রাখি। কেউ লেখক, কেউ শিল্পী, কেউ উদ্যোক্তা, কেউ সাংবাদিক। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের একটি পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা কঠিন। আইমান সিদ্দিক তাঁদেরই একজন।

২০১৫ সালে Nightmare উপন্যাসের মাধ্যমে লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ। এরপর প্রকাশিত হয়েছে আরও চারটি উপন্যাস, চলছে ষষ্ঠটির কাজ। লেখালেখির পাশাপাশি শতাধিক ছবি এঁকেছেন। ২০১৮ সালে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে ব্যবসায়িক জগতে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠা করেনদ্য ডেকোর ২০২৩ সালে শুরু করেনডেকোর ডিজিটাল এর পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম ‘সিটিজি পোস্ট’ সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গেও যুক্ত তিনি।

তবে এই যাত্রা কেবল সাফল্যের নয়। আছে ব্যর্থতা, অসমাপ্ত উদ্যোগ, নিজের সীমাবদ্ধতার স্বীকারোক্তি এবং বারবার নতুন করে শুরু করার চেষ্টা। জীবনের দীর্ঘ এই পথচলার গল্প জানাতে  তিনি মুখোমুখি হয়েছিলেন দক্ষিণপূর্বের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জুহায়ের ফাতিন ইশতিয়াক

দক্ষিণপূর্ব: আপনার এতগুলো পরিচয়ের শুরুটা কোথা থেকে?

আইমান সিদ্দিক: আমার শুরুটা আসলে লেখালেখি দিয়ে। ২০১৫ সালে Nightmare প্রকাশের মাধ্যমে লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করি। তখন মূলত গল্প বলা এবং নিজের ভাবনাগুলোকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটা তাগিদ থেকেই লিখতাম। পরে আরও চারটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। এখন ষষ্ঠ উপন্যাসের কাজ করছি।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি বেড়েছে, কিন্তু লেখালেখি কখনো পুরোপুরি ছেড়ে দিইনি। বরং একটা পর্যায়ে এসে বুঝেছি, লেখার অভিজ্ঞতা আমার অন্য কাজগুলোকেও প্রভাবিত করছে।

দক্ষিণপূর্ব: কীভাবে?

আইমান সিদ্দিক: লেখালেখির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো গল্প বলতে শেখা। ব্যবসায়ও গল্প আছে, ব্র্যান্ডেও গল্প আছে, মানুষের সঙ্গেও গল্প আছে। একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরবে, একটি পণ্য বা সেবাকে কীভাবে উপস্থাপন করবে- সেখানেও গল্প বলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

তাই আমি মনে করি, সাহিত্যিক আইমান আর উদ্যোক্তা আইমান পুরোপুরি আলাদা কেউ নয়। একজনের অভিজ্ঞতা অন্যজনকে তৈরি করেছে।

দক্ষিণপূর্ব: লেখালেখির পাশাপাশি ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ কীভাবে তৈরি হলো?

আইমান সিদ্দিক: ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহও দীর্ঘদিনের। এখন পর্যন্ত শতাধিক ছবি আঁকা হয়েছে। বেশির ভাগ কাজ অ্যাক্রিলিকে।

লেখায় আমরা শব্দ ব্যবহার করি, আর ছবিতে রং দৃশ্য ব্যবহার করি। মাধ্যম আলাদা হলেও মূল জায়গাটা একই- মনের ভেতরের কোনো ভাবনাকে বাইরে প্রকাশ করা। কখনো কোনো বিষয় লিখে প্রকাশ করতে ইচ্ছা করে, আবার কখনো মনে হয় সেটিকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা ভালো হবে।

দক্ষিণপূর্ব: একজন লেখক একজন শিল্পী হিসেবে এই দুই পরিচয়ের মধ্যে কি কোনো সম্পর্ক খুঁজে পান?

আইমান সিদ্দিক: অবশ্যই। লেখালেখি আমাকে পর্যবেক্ষণ করতে শিখিয়েছে। মানুষকে দেখতে, মানুষের আচরণ বুঝতে, অনুভূতিকে ধরতে শিখিয়েছে। আর ছবি আঁকা আমাকে অন্যভাবে সেই অনুভূতিগুলো প্রকাশ করার সুযোগ দেয়।

একদিকে উপন্যাসের চরিত্র, অন্যদিকে ক্যানভাসের রং- দুটিই আমার সৃজনশীলতার অংশ।

দক্ষিণপূর্ব: ২০১৮ সালে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে ব্যবসায় প্রবেশ করলেন। এই পরিবর্তনটা কতটা কঠিন ছিল?

আইমান সিদ্দিক: বেশ কঠিন ছিল। কারণ সৃজনশীল কাজ আর ব্যবসায়িক বাস্তবতা এক জিনিস নয়। ২০১৮ সালেদ্য ডেকোরপ্রতিষ্ঠার পর বুঝেছি, একটি ভালো ধারণা থাকলেই হয় না- সেটিকে বাস্তবায়ন করার জন্য পরিকল্পনা, সময়, বাজেট, টিম ম্যানেজমেন্ট এবং ক্লায়েন্টের প্রত্যাশা- সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে হয়।

একটি ক্যানভাসে ভুল হলে আবার আঁকা যায়। কিন্তু একটি বড় ইভেন্টে ভুল করার সুযোগ অনেক কম। সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সবকিছু ঠিকঠাক করতে হয়। এই অভিজ্ঞতা আমাকে বাস্তবতা বুঝতে অনেক সাহায্য করেছে।

দক্ষিণপূর্ব: ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের অভিজ্ঞতা আপনাকে কী শিখিয়েছে?

আইমান সিদ্দিক: সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলোআইডিয়া এবং বাস্তবায়নের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। আমরা অনেক সময় একটি ধারণাকে খুব সুন্দর মনে করি। কিন্তু সেটিকে বাস্তবে রূপ দিতে গেলে দেখা যায়, অনেক বিষয় বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

একটি টিমকে একসঙ্গে কাজ করানো, সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া, বাজেট নিয়ন্ত্রণ করা এবং শেষ মুহূর্তের সমস্যার সমাধান করা- এসব আমাকে উদ্যোক্তা হিসেবে অনেক পরিণত করেছে।

দক্ষিণপূর্ব: ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের দিকে গেলেন কেন?

আইমান সিদ্দিক: সময়ের সঙ্গে ব্যবসার ধরন পরিবর্তন হচ্ছে। মানুষ এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় কাটাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও ডিজিটাল উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই চিন্তা থেকেই ২০২৩ সালের মার্চেডেকোর ডিজিটালএর যাত্রা শুরু করি। শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ডিজিটাল মার্কেটিংকে কেন্দ্র করে কাজ করলেও পরে ব্র্যান্ডিং, কনটেন্ট, ডিজাইন, পেইড মার্কেটিং, ওয়েবসাইট এবং অডিওভিজ্যুয়াল প্রোডাকশনের মতো বিভিন্ন সেবা যুক্ত হয়েছে।

দক্ষিণপূর্ব: এখানে আপনার লেখক পরিচয় কতটা কাজে লাগে?

আইমান সিদ্দিক: অনেক বেশি। একটি ব্র্যান্ডের জন্য কনটেন্ট তৈরি করতে গেলে শুধু সুন্দর ডিজাইন করলেই হয় না। মানুষ কেন সেটি দেখবে, কীভাবে বার্তাটি বুঝবে, কীভাবে মনে রাখবে- এসব ভাবতে হয়।

লেখক হিসেবে গল্প বলার যে অভিজ্ঞতা পেয়েছি, সেটি ব্র্যান্ড কনটেন্ট তৈরিতেও কাজে লাগে। আগে গল্প লিখতাম বইয়ের জন্য, এখন কখনো সেই গল্প বলি একটি ব্র্যান্ডের জন্য। মাধ্যম বদলেছে, গল্প বলা বন্ধ হয়নি।

দক্ষিণপূর্ব: ভবিষ্যতে ব্যবসাকে কোন জায়গায় নিতে চান?

আইমান সিদ্দিক: দীর্ঘমেয়াদেডেকোর গ্রুপ লিমিটেডনামে একটি বৃহত্তর ব্যবসায়িক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে। ইভেন্ট, বিজ্ঞাপন, ট্রাভেল, ইন্টেরিয়র, মিডিয়াসহ একাধিক খাতকে এর আওতায় আনার স্বপ্ন রয়েছে।

তবে আমি জানি, বড় স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি সেটি বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা, দক্ষ মানুষ এবং ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। তাই এটিকে আমি একটি দীর্ঘ যাত্রা হিসেবে দেখি।

দক্ষিণপূর্ব: আপনার দীর্ঘ এই পথচলায় ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা কতটা আছে?

আইমান সিদ্দিক: ব্যর্থতা অনেক আছে। সব পরিকল্পনা সফল হয়নি, সব উদ্যোগ প্রত্যাশামতো এগোয়নি। কিছু কাজ মাঝপথে থেমেছে, কিছু উদ্যোগ প্রত্যাশিত গতি পায়নি। আমার মনে হয়, ব্যর্থতাকে জীবনের বাইরে রাখার চেষ্টা করলে মানুষ নিজের বাস্তবতাকে অস্বীকার করে। বরং ব্যর্থতা থেকে শেখাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দক্ষিণপূর্ব: নিজের কোন সীমাবদ্ধতাগুলো আপনি সবচেয়ে বেশি অনুভব করেন?

আইমান সিদ্দিক: রুটিন ধরে রাখা, কাজ শেষ করার ধারাবাহিকতা এবং অর্থ ব্যবস্থাপনা- এই জায়গাগুলোতে এখনো আমার চ্যালেঞ্জ আছে। অনেক সময় নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করার আগ্রহ থাকে, কিন্তু সবগুলোকে একই ধারাবাহিকতায় শেষ করা কঠিন হয়ে যায়।

তবে নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হওয়াটাও এক ধরনের অগ্রগতি। কারণ কোথায় সমস্যা আছে জানলে সেটি নিয়ে কাজ করা যায়।

দক্ষিণপূর্ব: সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন?

আইমান সিদ্দিক: সংবাদমাধ্যম আমাকে যোগাযোগের আরেকটি দিক দেখিয়েছে। ব্যবসায় একটি প্রতিষ্ঠান নিজের গল্প মানুষের কাছে তুলে ধরে। কিন্তু সংবাদমাধ্যম সেই গল্পকে প্রশ্ন করে, যাচাই করে এবং মানুষের সামনে তুলে ধরে।

চট্টগ্রামভিত্তিক সংবাদমাধ্যমসিটিজি পোস্টএর ম্যানেজিং এডিটর হিসেবে কাজ করতে গিয়ে সম্পাদকীয় কার্যক্রম, বাণিজ্যিক যোগাযোগ, সাংগঠনিক পরিকল্পনা এবং কনটেন্ট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা আমার চিন্তাভাবনাকে আরও বিস্তৃত করেছে।

দক্ষিণপূর্ব: ব্যবসার বাইরে সামাজিক উদ্যোগেও আপনাকে সক্রিয় দেখা যায়। বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

আইমান সিদ্দিক: ব্যবসা মানুষের প্রয়োজন পূরণ করে এবং অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করে। কিন্তু সমাজের জন্য কাজ করার জায়গাটাও গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহ থেকেইথার্ড স্মাইল’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।

তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ, সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং নতুন উদ্যোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি- এসব জায়গায় কাজ করার চেষ্টা করেছি। সামাজিক উদ্যোগের সাফল্য অবশ্য ব্যবসার মতো সহজে পরিমাপ করা যায় না। একজন তরুণের চিন্তায় পরিবর্তন আসাও অনেক বড় অর্জন হতে পারে।

দক্ষিণপূর্ব: একই সঙ্গে এতগুলো কাজ করা- লেখালেখি, ছবি আঁকা, ব্যবসা, মিডিয়া সামাজিক উদ্যোগ- এটা কি শক্তি, নাকি সংকট?

আইমান সিদ্দিক: দুটোই হতে পারে। বহুমাত্রিকতা একজন মানুষকে অনেক অভিজ্ঞতা দেয়। একটি ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অন্য ক্ষেত্রেও কাজে লাগে। কিন্তু একই সঙ্গে মনোযোগ ভাগ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

একজন লেখককে লিখতে হয়, শিল্পীকে আঁকতে হয়, উদ্যোক্তাকে প্রতিদিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, মিডিয়ায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হয়। সবকিছু একসঙ্গে সামলানো সহজ নয়। তাই এখন আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নতুন পরিচয় যোগ করা নয়, বরং যেসব কাজ করছি সেগুলোকে আরও সুসংগঠিত করা।

দক্ষিণপূর্ব: তাহলে আপনার কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা কী?

আইমান সিদ্দিক: সাফল্য শুধু একটি পদবি, একটি প্রতিষ্ঠান বা একটি বই দিয়ে মাপা যায় না। আমার কাছে সাফল্য হলো- নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এমন কিছু তৈরি করা, যার মূল্য নিজের বাইরেও আছে।

আমি যদি এমন একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারি যেখানে অন্য মানুষ কাজের সুযোগ পায়, যদি কোনো বই পাঠকের মনে জায়গা করে নেয়, যদি কোনো সামাজিক উদ্যোগ একজন তরুণকে নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করে- এসবই আমার কাছে সাফল্যের অংশ।

দক্ষিণপূর্ব: আগামী কয়েক বছরে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

আইমান সিদ্দিক: আমি চাই, আমার বিভিন্ন কাজ যেন বিচ্ছিন্ন না থাকে। সাহিত্য, শিল্প, ব্যবসা, মিডিয়া সামাজিক উদ্যোগ- সবগুলোর অভিজ্ঞতাকে একটি বড় সৃজনশীল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে চাই।

ষষ্ঠ উপন্যাসের কাজ শেষ করতে চাই, ব্যবসাগুলোকে আরও সংগঠিত করতে চাই এবং দীর্ঘমেয়াদেডেকোর গ্রুপ’-কে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার স্বপ্ন আছে।

দক্ষিণপূর্ব: শেষ প্রশ্ন। আপনার জীবনের গল্পকে যদি এক বাক্যে বলতে হয়, কী বলবেন?

আইমান সিদ্দিক: আমার মনে হয়, এটি সাফল্যের গল্পের চেয়ে নির্মাণের গল্প বেশি। আমি এখনো নিজেকে তৈরি করছি। একটি কাজ থেকে অন্য কাজ শিখছি, ভুল করছি, আবার শুরু করছি। আমার গল্পের শেষ অধ্যায় এখনো লেখা হয়নি।

জেএফআই/দক্ষিণপূর্ব

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।