দক্ষিণ পূর্ব

সাতকানিয়ায় ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা, গ্রেপ্তার ১২

saiful
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:০০ দুপুর
পঠিত :
সাতকানিয়ায় ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা, গ্রেপ্তার ১২

সাতকানিয়ায় জাহেদুল আলম (৩৩) ওরফে ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মো. আজাদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তাররা হলেন—জসিম উদ্দিন (৫০), জয়নাল আবেদীন মানিক (২৬), মো. রিদুয়ান (২৬), মো. টিপু (৩৫), আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ (২০), আব্দুল্লাহ আল তুষার (৩০), খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক (৫২), মো. রবিউল হোসেন (২১), আবুল কাশেম (৩৮), হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব (২৮), মো. হেলাল ও মো. আজাদ।

পুলিশ জানায়, গত ৩০ আগস্ট রাতে পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাজালিয়া-শীলঘাটা সড়কের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় জাহেদুলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ২ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় মামলা করেন।

মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে জেলা পুলিশ।

পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে পুরানগড় নতুনহাট এলাকায় জাহেদুলকে মারধর করে একটি ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগসংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ তৈরি হয়। ভিডিওটি মামলার আসামি জয়নাল আবেদীন মানিক প্রকাশ করেছিলেন বলে পুলিশ জানায়। এ নিয়ে জাহেদুল মানিক ও তার সহযোগীদের হুমকি দিয়েছিলেন বলেও পুলিশের দাবি।

পরে রাত ১০টার দিকে জাহেদুল তার সঙ্গে থাকা মো. ওয়াহিদকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাজালিয়া স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন। ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে তাদের পথরোধ করা হয়। এ সময় একদল ব্যক্তি দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জাহেদুলের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ওয়াহিদও আহত হন।

পুলিশ আরো জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের কয়েকজন চট্টগ্রামের বাইরে ও ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমে পাহাড়তলী থানা এলাকা থেকে মো. আজাদ ও মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মো. আজাদকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার জবানবন্দি, গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অবশিষ্ট আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মামলার এজাহারনামীয় ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’


মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।