দক্ষিণ পূর্ব

উপজেলা নির্বাচনে নিষিদ্ধ পোস্টার-মিছিল, প্রচার চলবে বিলবোর্ডে

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৫৭ সকাল
পঠিত : ৪১
উপজেলা নির্বাচনে নিষিদ্ধ পোস্টার-মিছিল, প্রচার চলবে বিলবোর্ডে

ছবি সংগৃহীত

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রচারণার ধরন ও ব্যয়ের ওপর নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মিছিল-শোডাউন, হেলিকপ্টার ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত নতুন আচরণবিধি গেজেট আকারে জারি করা হয়।

নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে।

এ ছাড়া তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোডাউনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারের সুযোগও থাকছে না।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থীকে কোন কোন মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার পেছনে ব্যয় করা অর্থও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে।

নতুন আচরণবিধিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার ঠেকাতে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না।

এআই ব্যবহার করে নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন ভুয়া, বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না।

একই সঙ্গে ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা কিংবা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র কিংবা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপরও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।

নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় নির্ধারিত সীমার বাইরে ক্যাম্প স্থাপন এবং মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে।

নতুন বিধিমালায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আরও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন কিংবা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।