দক্ষিণ পূর্ব

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে সিএনজিচালক: পুলিশ

দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:২৪ সকাল
পঠিত : ৩২
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে সিএনজিচালক: পুলিশ

ছবি

Degchibarictg

কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া এসব তথ্য জানান।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। গভীর রাতে নির্জন পথের দিকে গাড়ি চালাতে শুরু করলে বিপদের আশঙ্কা করে সে। এ সময় নিজের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে বাবার কাছে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে উদ্ধারের আকুতি জানায়। তবে রাত গভীর হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বার্তাটি দেখতে পাননি।

পুলিশ জানায়, অটোরিকশাটি বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া এলাকা পেরিয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি নির্জন ধানক্ষেতে গিয়ে থামে। সেখানে তাজমিন পালানোর চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই স্থানে তাকে ধর্ষণের পর গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত চালক।

বৃহস্পতিবার সকালে ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ ও পাশে পড়ে থাকা অটোরিকশাটি উদ্ধার করে লালমাই থানা-পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিহতের পরিচয় শনাক্ত, মোবাইল ফোনের তথ্য ও কলতালিকা পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে অগ্রগতি আসে। পরে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত থাকায় পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত সে। তাজমিন নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে নগরীর হোটেল নূরজাহানের সামনে তাকে সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠায় সে।

পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা গিয়ে তাজমিনকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

পরে তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

আর /দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।