চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বেতন-ভাতা পরিশোধ স্থগিত রাখতে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখাকে চিঠি দেওয়ার পর বুধবার (৭ অক্টোবর) বেতন পরিশোধের দাবিতে ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন কর্মচারীরা। এতে ব্যাংকের ভেতরে থাকা কর্মকর্তারা বাইরে বের হতে পারছেন না বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, চুয়েটে ৩৬৭ জন শিক্ষক, ২০৮ জন কর্মকর্তা ও ৫১২ জন কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ হলেও শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বেতন এখনো পরিশোধ হয়নি। নির্ধারিত সময়ে বেতন না পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বুধবার বেতন সংক্রান্ত জটিলতার দ্রুত সমাধান এবং বেতন পরিশোধের দাবিতে কর্মচারীরা সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার সামনে অবস্থান নেন। তাদের অবস্থানের কারণে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপককে চিঠি দিয়ে বেতন-ভাতা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
ব্যাংকে পাঠানো চিঠিতে উপাচার্য বলেন, তার পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকে বেতন-ভাতার বিল পাঠানো অননুমোদিত ও বেআইনি। চুয়েট আইন, ২০০৩-এর ১৩(৭) ধারা অনুযায়ী উপাচার্যের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ। ব্যাংক বেতন-ভাতা ছাড় করলে তাদেরও বেআইনি আর্থিক লেনদেনে সহায়তার জন্য দায়ী করা হতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে নির্দেশনা অমান্যকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
তবে উপাচার্যের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম। তিনি বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বেতন-বোনাস পরিশোধে উপাচার্যের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয় না। হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপহিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরেই ব্যাংক থেকে বেতন-বোনাস ছাড় করা হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার বিলও স্বাক্ষর করে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছিল। পরে উপাচার্য চিঠি দিয়ে তা বন্ধ করে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও নানা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু কখনো বেতন-বোনাস বন্ধ হয়নি। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বশে আনতেই মূলত এই সংকট তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক বলেন, প্রতি মাসের মতো গত মাসেও হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপহিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর করা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতার শিট গ্রহণ করা হয়েছে। তবে উপাচার্য চিঠি দিয়ে বেতন-ভাতা স্থগিত রাখতে বলেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা আইনি মতামত নিতে বলেছেন। আইনি মতামত পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাধারণত প্রতি মাসের ৩০ বা ৩১ তারিখের মধ্যে চুয়েটের বেতন পরিশোধ করা হয়। এবার নির্ধারিত সময়ে বেতন না পাওয়ায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনেকে আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
চুয়েটে বেতন-ভাতা নিয়ে এই জটিলতার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা চলছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এরপর নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে রয়েছেন।
টানা শাটডাউনের কারণে চুয়েটের ক্লাস, পরীক্ষা এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।