দক্ষিণ পূর্ব

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ আজ

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৩৭ বিকাল
পঠিত :
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ আজ

প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সফরের প্রথম দিন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রাতঃরাশ বৈঠক দিয়ে কর্মসূচি শুরু করে দিনশেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন তিনি। এদিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনসহ মোট ১০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

গত ২১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২২ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। পরে সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চ পর্যায়ের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেন তিনি।

প্রথম দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা ও হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিল্‌স-এমের সঙ্গে বৈঠক করেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন তিনি। এছাড়া ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এবং মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী।

২৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক দাতব্য, জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় বৈশ্বিক মানবিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয় উঠে আসে।

দিনের কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গেও তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। সংকটের স্থায়ী সমাধানে তাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি আজ ২৪ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। তার জন্য ১৫ মিনিট সময় নির্ধারিত রয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথম ভাষণ। তিনি বাংলায় বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে।

ভাষণের আগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে।

জাতিসংঘে ভাষণ শেষে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খানের আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরের শেষ দিন ২৫ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একইদিন কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।

নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় এমিরেটসের ইকে-২০২ ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৭ সেপ্টেম্বর তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এই প্রথম জাতিসংঘ সফরে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবিক সহায়তা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন তিনি।

আর/ দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।