আজ শনিবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিমানবন্দর থানায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থানে সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আঘাতের মাধ্যমে তিনি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করেছেন। এতে বিদেশফেরত যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হয়। ঘটনার পেছনে কোনো মহলের ইন্ধন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরলেও আসামিপক্ষ তা বাতিল করে জামিনের আবেদন করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে সৌদি আরবের মদিনা থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইট ঢাকায় আসে। যাত্রীরা নামার পর ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট দেখা দিলে লাগেজ পেতে দেরি হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
পরিস্থিতি দেখতে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে যান। পুলিশি মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তাঁর দিকে এগিয়ে গিয়ে হুমকি দেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
ঘটনার পর গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এদিকে, গতকাল এক বিবৃতিতে তাঁর মুক্তি দাবি করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, ওমরা পালন শেষে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে অন্যান্য যাত্রীর মতো আখতারুজ্জামানও ভোগান্তির শিকার হন এবং এর প্রতিবাদে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আখতারুজ্জামান ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ১৩ ডিসেম্বর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।