অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ। বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) তিনি পদত্যাগ করেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে চীন সফরের সময় আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়া এবং বাংলাদেশে অবৈধভাবে একটি জমির প্লট নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ নিয়ে ডব্লিউএইচও ও বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে। তবে শুরু থেকেই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছেন সায়মা ওয়াজেদ।
২০২৩ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্যদেশগুলোর ভোটে ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন সায়মা ওয়াজেদ। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পাঁচ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব নেন।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান শুরু করে। এরপর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাঁকে অবৈতনিক ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও। পদত্যাগের আগ পর্যন্ত তিনি ওই ছুটিতেই ছিলেন।
ডব্লিউএইচওর তদন্তে চীন সফরকে কেন্দ্র করে ভ্রমণ ব্যয়ে অনিয়ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
গত ৩ জুলাই আইনজীবীদের মাধ্যমে পাঠানো এক চিঠিতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন সায়মা ওয়াজেদ। জমির প্লটের বিষয়ে তিনি বলেন, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি সেটি নিয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় প্লটটি পেয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ভ্রমণ ব্যয়ের অনিয়মের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন সায়মা। আইনজীবীদের মাধ্যমে দেওয়া চিঠিতে তিনি বলেন, ভ্রমণ খরচ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি ঘটেছে। ওই অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার।
শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসকে জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে সদস্যদেশগুলোর সেবা করে এসেছেন।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের ওপর তাঁর আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় এক বছর বেতন ছাড়া ছুটিতে থাকায় তাঁর আর্থিক পরিস্থিতিও অসহনীয় হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে ডব্লিউএইচও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, সায়মা ওয়াজেদ ছুটিতে রয়েছেন। তবে গোপনীয়তার কারণে তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সংস্থাটি।
ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালকেরা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ভূমিকা পালন করেন। মহামারি ও রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা, জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে ডব্লিউএইচওর নীতি ও কৌশল বাস্তবায়ন তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব।
বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্যদেশগুলো পাঁচ বছর পরপর ভোটের মাধ্যমে আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচন করে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।