দক্ষিণ পূর্ব

ডেঙ্গু রোধে উপজেলায় উপজেলায় ছুটছেন ডিসি জাহিদ, নিজেই ছিটাচ্ছেন ওষুধ

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:১১ সকাল
পঠিত : ৩৩
ডেঙ্গু রোধে উপজেলায় উপজেলায় ছুটছেন ডিসি জাহিদ, নিজেই ছিটাচ্ছেন ওষুধ

ছবি

Degchibarictg

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলীর পর এবার হাটহাজারীতে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়েছেন তিনি। শুধু কার্যক্রম তদারকি নয়, নিজ হাতে ফগার মেশিন দিয়ে মশা মারার ওষুধ ছিটিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেও কাজ করছেন জেলা প্রশাসক।

শনিবার (১০ অক্টোবর) হাটহাজারী পৌরসভা ও উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১৫টি চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একযোগে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচির শুরুতে সচেতনতামূলক র‍্যালি বের করা হয়। পরে জেলা প্রশাসক নিজেই ফগার মেশিন দিয়ে মশকনিধনের ওষুধ প্রয়োগ করেন। একই সঙ্গে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইড ছিটানো হয়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ধারাবাহিক এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ডে সাত দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পরিচালিত ওই কর্মসূচিতে সাতটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ জন্য সংগ্রহ করা হয় ১৬টি ফগার মেশিন ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক। অভিযানে অংশ নিয়ে নিজেও মশকনিধন ও নালা পরিষ্কারের কাজ করেন তিনি।

এরপর গত ৩ অক্টোবর কর্ণফুলী উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন জেলা প্রশাসক। সৈন্যারটেক থেকে ব্রিজঘাট পর্যন্ত সচেতনতামূলক র‍্যালি শেষে চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় মশকনিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ওই দিন উপজেলার ১০টি চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে গত ২৫ জুলাই থেকে জেলাজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। প্রথম দিনের কর্মসূচিতে প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও স্থাপনা থেকে অপসারণ করা হয় প্রায় ১৩৫ টন বর্জ্য।

পরবর্তী সময়ে জেলার প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন জলাশয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গত ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে শয্যা নির্ধারণ এবং পরীক্ষার কিট সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

হাটহাজারীর কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছিল, অক্টোবর মাসে তা অনেকটাই কমেছে। ডেঙ্গুতে প্রাণহানিও কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে কর্ণফুলীতে এক কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলী উপজেলায় সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে সীতাকুণ্ডে বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনার পর এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যু হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডেঙ্গুতে প্রাণহানি রোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা চাই না, আমাদের কোনো একটা প্রাণ এভাবে হারিয়ে যাক, কোনো একটা বাতি এভাবে নিভে যাক। কারণ, আমাদের এই বাতিগুলো আমাদের আলোকিত করবে। একদিন বিশ্বমঞ্চে আমাদের নিয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর মতো রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে মশার বিস্তার রোধের পাশাপাশি জনসচেতনতাও বাড়ানো সম্ভব হবে।

নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষের স্বাস্থ্য, চিন্তা ও পরিবেশ—সব ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু একটি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই চলবে না।

কর্মসূচিতে তরুণদের অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি সমাজের নেতিবাচক ঘটনার পাশাপাশি ইতিবাচক উদ্যোগগুলোও গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

হাটহাজারীর কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।

আর /দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।