দক্ষিণ পূর্ব

দিল্লিতে ককরোচ পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা, বন্ধ হচ্ছে ইন্টারনেট

saiful
saiful
প্রকাশ : ৯ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৪৩ দুপুর
পঠিত : ২
দিল্লিতে ককরোচ পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা, বন্ধ হচ্ছে ইন্টারনেট
Degchibarictg


ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শনিবার (১০ অক্টোবর) অনুষ্ঠেয় এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন বড় আকার ধারণ করতে পারে—এমন আশঙ্কায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে যন্তরমন্তরের আশপাশের এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, জনপথ ও কর্তব্যপথের আশপাশের প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখতে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ।

বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করতে রেল ও মেট্রো পরিষেবাতেও বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। আন্দোলন মোকাবিলায় বিভিন্ন রাজ্য ও অঞ্চল থেকে দিল্লিগামী ৬১টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রায় ২৩ হাজার সদস্য মোতায়েনের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের এক বিচারক পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, ‘মশা মারতে আপনারা হাতুড়ি ব্যবহার করতে পারেন না।’ এরপর অধিকাংশ মেট্রো স্টেশন খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ধারণে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেন।

ককরোচ পার্টি ও ভারতের বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের দাবি, তাঁর নেতৃত্বে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আস্থা রাখা কঠিন।

প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও বিতর্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বিরোধীদের ধারণা, এই পদক্ষেপ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছিল। তবে এসব অভিযোগ ও নির্বাচনে এর প্রভাব নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রয়োজন।

কয়েক মাস আগে যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের মাধ্যমে এক সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করার দাবি করেছে দলটি। সেই অভিজ্ঞতার কারণে এবারও আন্দোলন বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির নিরাপত্তাব্যবস্থা, ইন্টারনেট পরিষেবা এবং গণপরিবহনে বিধিনিষেধের চূড়ান্ত পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।