দক্ষিণ পূর্ব

নিলামে পণ্য বিক্রি করে চট্টগ্রাম কাস্টমসের আয় ৬০০ কোটি

Jalal Rumi
প্রকাশ : ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৫৬ সকাল
পঠিত : ১৬
নিলামে পণ্য বিক্রি করে  চট্টগ্রাম কাস্টমসের আয় ৬০০ কোটি

ছবি-দক্ষিণপূর্ব


চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পণ্য অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে গত সাড়ে পাঁচ বছরে ৫৯৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এ রাজস্ব আদায় হয়েছে।

এর মধ্যে গত দেড় বছরেই নিলাম থেকে রাজস্ব এসেছে ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। নিলাম কার্যক্রম বাড়ানোর ফলে একদিকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ছে, অন্যদিকে বন্দরের ইয়ার্ডে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পণ্য ও কনটেইনার সরিয়ে জায়গা খালি করা সম্ভব হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলামসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ২৪টি নিলামের মাধ্যমে ১ হাজার ৮১৪টি লট বিক্রি করা হয়। এতে রাজস্ব আয় হয় ১১৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

২০২২ সালে ৪২টি নিলামে ১ হাজার ৩৮১টি লট বিক্রি করে আয় হয় ১৩০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে ২৩টি নিলামের মাধ্যমে ৬৩২টি লট বিক্রি করে রাজস্ব আসে ৪১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

২০২৪ সালে ৫৫টি নিলামে ৫১১টি লট বিক্রি করে ২৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা আয় হয়। ২০২৫ সালে নিলামের সংখ্যা বেড়ে ৬০টিতে দাঁড়ায়। ওই বছর ১ হাজার ৪০টি লট বিক্রি করে রাজস্ব আয় হয় ১২৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৪৫টি অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নিলামে ৩৮৩টি লট বিক্রি করে ১৫৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কে এম করপোরেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোরশেদ বলেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নিলাম ব্যবস্থাপনা, পণ্যের তালিকা প্রস্তুত বা ইনভেন্টরি তৈরি এবং নিলামে বিক্রি হওয়া পণ্য ক্রেতাদের বুঝিয়ে দেওয়ার কাজে যুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নিলামের মাধ্যমে ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। স্বল্প সময়ে নিলাম থেকে এত বেশি রাজস্ব আদায় একটি রেকর্ড।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা কনটেইনার খালি করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর আওতায় খালাস না হওয়া ও নিলামযোগ্য পণ্য অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, নিলামে বিক্রির উপযোগী নয়—এমন পণ্য ধ্বংস বা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে বন্দরের ইয়ার্ডে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পণ্য কমানোর পাশাপাশি জায়গা খালি করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী খালাস না হওয়া পণ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে নিলামের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিলাম করা পণ্য বিক্রি থেকে রাজস্ব আয়ও বেড়েছে।’

তিনি আরও জানান, নিলামের উপযোগী নয়—এমন পণ্য সরিয়ে বন্দরের ইয়ার্ড খালি করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।