জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ ছিলেন মতপ্রকাশ ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার প্রতীক। দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে তিনি জীবন দিয়েছেন। গত ১৬ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে এ ধরনের আরও কয়েকশ ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার কোনো বিচার এখনও পাওয়া যায়নি।
বুধবার বিকেলে পুরান ঢাকার পলাশী এলাকায় আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভের পাদদেশে আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আবরার ফাহাদ সে সময় আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কিছু বলেনি। সে শুধু ভারতীয় আগ্রাসনের কথা বলেছিল। বিশেষ করে ফেনী নদীর পানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিল—বিনিময়ে আমরা কী পেলাম? তাতেই ছাত্রলীগ তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।’
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের স্বার্থ আদায় হচ্ছে কি না।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অনেকগুলো অভিন্ন নদী রয়েছে। কিন্তু গত ৫০ বছরেও এসব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ পায়নি। তাঁর দাবি, ভারত ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণ করে গঙ্গার পানি নিয়ন্ত্রণ করছে। ফারাক্কা ব্যারাজ বাংলাদেশের জনগণকে শোষণের একটি হাতিয়ার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরে এ চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আবরার ফাহাদ যে বিষয়টি চেয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নের সময় এখন এসেছে। ভারত ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও প্রতিবেশীসুলভ আচরণের কথা বলে আসছে। নতুন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মাধ্যমে সেটি প্রমাণ করতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শুধু চুক্তি নবায়ন করলেই হবে না, পানি বণ্টন চুক্তি নতুন করে স্বাক্ষর করতে হবে।’
আবরার ফাহাদকে জাতীয় মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, জাতীয় স্বার্থের পক্ষে এবং বাংলাদেশ যেন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পায়, সে জন্য আবরার লেখালেখি করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা যে দাস নই, এটা আবরার ফাহাদ দেখিয়েছিলেন।’
আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ভারতের ‘এক্সটেনশন’ হিসেবে কাজ করেছে এবং ভারতের কারণে ক্ষমতায় ছিল—এমন বিষয় আবরার হত্যার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর দাবি, আবরার শেখ হাসিনা কিংবা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কিছু লেখেননি; তিনি ভারতীয় ‘আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে লিখেছিলেন। এ কারণে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় কার্যকর না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম।
স্মরণসভায় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাতসহ আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।