কৌশলগত বাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশ থেকে হুথি যোদ্ধাদের সরিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের তীরবর্তী বন্দরনগরী মোচার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবিও করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।
সোমবার (৫ অক্টোবর) লোহিত সাগরের উপকূল ধরে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী দ্রুত অগ্রসর হয়। এ সময় তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের কয়েকটি অবস্থান থেকে ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের সরিয়ে দিয়ে মোচার দিকে এগিয়ে যায়।
স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল পরিষদ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মোচা সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সরকারি আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি বিমান বাহিনীর সহায়তায় সেনারা শহরটির উপকণ্ঠে পৌঁছেছে। হুথি যোদ্ধারা পাহাড়ি এলাকার দিকে পিছু হটছে বলেও জানা গেছে।
তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনি সরকারের দাবি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইয়েমেনি বাহিনী সোমবারের আগেই বাব আল-মান্দেব প্রণালির প্রবেশপথের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করেছিল। এর মধ্যে ধুবাব জেলার একটি বিমানঘাঁটিও রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও এ জলপথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলবর্তী হোদেইদাহ অঞ্চলে একটি সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
এর জবাবে হুথিরা দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধারা সৌদি আরবের কয়েকটি কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাবিঘে সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর একটি শোধনাগার, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
তবে এসব দাবিও তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সৌদি সরকার বা আরামকো কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।
সৌদি আকাশসীমায় চলাচলকারী উড়োজাহাজের ওপর হামলার হুমকিও দিয়েছে হুথিরা।
এদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানিপণ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনি সেনাবাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করে প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত ময়উন বা পেরিম দ্বীপ দখল করে হুথিরা। এর মাধ্যমে কৌশলগত জলপথটির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হয়।
তবে বাব আল-মান্দেবকে ঘিরে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। উপকূলীয় এলাকার নিয়ন্ত্রণ ইয়েমেনি সরকারের অবস্থান শক্তিশালী করলেও হুথিরা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্যান্য এলাকা থেকে বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে সক্ষম বলে আশঙ্কা রয়েছে।
ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজের আশপাশেও সংঘাত তীব্র হয়েছে। সরকারি সামরিক সূত্রের দাবি, হুথিরা একটি পাহাড়ি সড়কের কিছু অংশ দখল করেছে। এতে শহরের ভেতরে থাকা সরকারি বাহিনী বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে সরকারি অপর একটি সূত্র এ দাবি অস্বীকার করেছে।
সরকারি সূত্র আরও জানিয়েছে, হুথিরা তাইজ প্রদেশের কিছু এলাকায় অগ্রসর হয়েছে এবং তাইজ-আদেন সড়কের একটি সেতু ধ্বংস করেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। তবে এসব পরস্পরবিরোধী তথ্যের সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।