দক্ষিণ পূর্ব

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:২১ সকাল
পঠিত : ৩৪
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি-দক্ষিণপূর্ব

রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংস্থাগুলোর জোরালো সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) আয়োজিত ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিফ্রেমিং রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে, যাতে অন্য কোনো বৈশ্বিক সংঘাত বা সংকটের আড়ালে এটি চাপা না পড়ে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ প্রচেষ্টা ও কার্যকর কূটনীতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ব রাজনীতির প্রভাবশালী দেশ ও জাতিসংঘের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হলো আশ্রিত প্রায় ১৫ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিককে নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তা এবং প্রভাবশালী দেশগুলোর রাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।

রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে বাংলাদেশ মানবিক কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা দিয়ে আসছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে শিবিরগুলোতে অপরাধ, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর গুরুতর চাপ তৈরি হয়েছে।

ক্যাম্পসংলগ্ন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রা রক্ষায় ক্যাম্পের চারপাশে সীমান্ত বেড়া এবং নিয়ন্ত্রিত যাতায়াতব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে সফল হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকারও সফলভাবে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর্মুলেশন কমিটি অন রোহিঙ্গা অ্যাফেয়ার্স’ গঠন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক সমন্বয়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে আরেকটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটিও কাজ করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, বিশ্বাসযোগ্য প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা ছাড়া দীর্ঘদিন মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকলে রাজনৈতিক সমাধানের তাগিদ কমে যেতে পারে। তাই জরুরি ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে দ্রুত ‘ট্রানজিশনাল স্ট্র্যাটেজি’ গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইসেন, বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

এসআই/দক্ষিণপূর্ব

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।