দক্ষিণ পূর্ব

সব ধর্মের মানুষের প্রয়োজনে সরকারের কৌশল ও নীতি প্রণয়ন হচ্ছে- অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৫১ দুপুর
পঠিত : ৫৩
সব ধর্মের মানুষের  প্রয়োজনে সরকারের কৌশল ও নীতি প্রণয়ন  হচ্ছে- অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশ সরকারের অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সনাতন, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ সব ধর্মের মানুষের সমস্যা ও প্রয়োজন মাথায় রেখেই সরকারের নীতি ও কৌশল প্রণয়ন করা হচ্ছে। মসজিদে যে অনুদান দেওয়া হয়েছে , তেমনি মন্দিরেও সে অনুদান দেওয়া হয়েছে । ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের পাশাপাশি মন্দিরের পুরোহিতদেরও অনুদান দেওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার নগরীর রহমতগঞ্জ জে এম সেন হলে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। কোনো গোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। বাংলাদেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও নৃগোষ্ঠীর মানুষের সমান অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। গত ছয় মাসে দেশের সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সম্পর্ক ও পরস্পরের প্রতি সম্মানবোধের ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং তা অব্যাহত থাকবে। বর্তমান সরকার কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য ক্ষমতায় আসেনি। বাংলাদেশের সব গোষ্ঠীর মানুষের বিপুল ভোটে বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বী, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই পরিবর্তনে অংশ নিয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন,বিগত দিনে একটি অরাজনৈতিক সরকারের কারণে সমাজে যে বিভেদ ও অবক্ষয় সৃষ্টি হয়েছে, তা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। তবে আমরা যে পথে এগোচ্ছি, সেই পথ সঠিক থাকলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ধর্ম-বর্ণের কোনো বিভেদ নেই। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারের গৃহিণীদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের সুফল সমাজের সব শ্রেণি ও গোষ্ঠীর মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যা পরিবর্তনের সূচনা, শেষ নয়।এ ধারা অব্যাহত থাকবে। জাতির কাছে বর্তমান সরকারের এই কমিটমেন্ট। সরকার শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব কাজের মাধ্যমে মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটাতে চায়।

মন্ত্রী আরো উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশকে একটি নতুন জায়গায় নিয়ে যেতে সরকার কাজ করছে। যার লক্ষ্যে উচ্চাভিলাষী বাজেট দেওয়া হয়েছে। বাজেটের সুফল যেন বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিক ও সব গোষ্ঠীর মানুষের কাছে পৌঁছে যায় এবং সবাই যেন দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আপনাদের কোনো সমস্যা থাকলে সরাসরি আসবেন। আমার দরজা সবার জন্য খোলা। কাউকে আপনাদের সমস্যার ফেরিওয়ালা হতে দেবেন না। মধ্যস্বত্বভোগী বা সমস্যার ফেরিওয়ালারা অনেক সময় বিভেদ সৃষ্টি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে। তাই কোনো মাধ্যমে না গিয়ে সরাসরি সরকারের কাছে সমস্যা তুলে ধরার আহ্বান জানান।

শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিস কুমার এবং চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম, সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ ভক্তসহ,বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকবৃন্দ।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।