দক্ষিণ পূর্ব

সরকার যোগ্য লোককে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, দাবি সাবেক শিক্ষার্থীদের

saiful
saiful
প্রকাশ : ৭ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৪৯ দুপুর
পঠিত : ২৭
সরকার যোগ্য লোককে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, দাবি সাবেক শিক্ষার্থীদের
Degchibarictg


চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) যোগ্যতা, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতেই সরকার সংবিধিবদ্ধ নিয়মে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বলে দাবি করেছেন চুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ।

তাদের মতে, নতুন উপাচার্য অত্যন্ত নীতিবান ও যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের অতীত অনিয়ম-দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়া এবং ক্যাম্পাসে ক্ষমতার প্রভাব বজায় রাখতে শিক্ষকদের একটি অংশ ও স্বার্থান্বেষী মহল সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে কৃত্রিম অচল অবস্থা তৈরি করেছে।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চুয়েট কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস রিয়াসাত হাসান সুমন। আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ভিপি ইলিয়াস হোসেন, সাবেক জিএস শফিকুল ইসলাম খান, সাবেক কালচারাল সেক্রেটারি নাসিম হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ছাত্রনেতারা জানান, নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম চুয়েটেরই সাবেক শিক্ষার্থী, যিনি নিজের ব্যাচে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) প্রো-ভিসি হিসেবে সফলতার সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি চুয়েটের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের একজন।

সাবেক নেতৃবৃন্দ বলেন, অধ্যাপক শরীফুল আলম একজন নীতিবান ও নীতি-নিয়মে আপসহীন শিক্ষক। বিগত স্বৈরাচারী শাসনের আমলেও নিজের চাকরির ঝুঁকি নিয়ে তিনি সরকারের অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিলেন। সরকার সব আইনগত ও প্রশাসনিক নিয়ম মেনে চুয়েটে একজন যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকেই উপাচার্য পদে পদায়ন করেছে। 

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে সাবেক ছাত্রনেতারা বলেন, ড. সায়েম ছিলেন তৃতীয় গ্রেডের (গ্রেড-৩) একজন জুনিয়র শিক্ষক এবং জ্যেষ্ঠতার তালিকায় তিনি ছিলেন ৭৩তম অবস্থানে। সরকারের নির্ধারিত ডেকোরাম ভেঙে তার চেয়ে ৭২ জন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে টপকে তাকে উপাচার্য করা হয়েছিল। অথচ তখন কিন্তু কোনো আন্দোলন তৈরি হয়নি।

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, অপসারিত সাবেক উপাচার্য সায়েম নিজের পদ শক্ত রাখতে শিক্ষার্থীদের বিদেশে ২০টি স্কলারশিপ ও চাকরির প্রলোভন দেখান। পাশাপাশি বিগত সরকারের ১৬-১৭ বছরের সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের রক্ষা করার আশ্বাস দিয়ে নিজের বলয় ভারী করেছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমান এই আন্দোলনের নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করছেন শিক্ষকদের একাংশ। চুয়েটে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতের অডিট ও অনিয়মের তথ্য প্রকাশ পাওয়ার ভয় পাচ্ছেন দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষকেরা। কারণ, অধ্যাপক শরীফুল আলম দায়িত্ব নিলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন এবং এসব অনিয়ম ধরে ফেলবেন।

এছাড়া ৩৬ জুলাই-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ থাকার সুযোগে কিছু গুপ্ত ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ছাত্রগোষ্ঠী নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে চাচ্ছে। আর শিক্ষকেরা তাদের নিজেদের স্বার্থে এসব শিক্ষার্থীকে উসকে দিয়ে মাঠে নামিয়েছেন, যা কার্যত সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।


সংবাদ সম্মেলন থেকে সাবেক নেতারা সুনির্দিষ্ট চার দফা আহ্বান জানান:

১. শিক্ষার্থীদের প্রতি: কোনো গোষ্ঠীর প্ররোচনায় পা না দিয়ে কালবিলম্ব না করে অবিলম্বে ক্লাস ও পরীক্ষায় ফিরে আসা।

২. শিক্ষকদের প্রতি: শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে আন্দোলন ছেড়ে নতুন উপাচার্যের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপে বসা।

৩. সরকারের প্রতি: ধৈর্য ও আইনি বিচক্ষণতার সঙ্গে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

৪. নতুন উপাচার্যের প্রতি: দ্রুত সশরীরে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপে বসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।

সাবেক নেতারা বলেন, সরকার কাকে উপাচার্য দেবে তা সম্পূর্ণ সংবিধিবদ্ধ অধিকার। কোনো উপাচার্যকে একদিনও অফিসে ঢুকতে না দিয়ে বা কাজ করার সুযোগ না দিয়ে অপসারণ দাবি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।