দক্ষিণ পূর্ব

সারা দেশ থেকে ফেরত নেওয়া হচ্ছে ৩০ লাখ পাঠ্যবই

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৪৪ দুপুর
পঠিত : ২০
সারা দেশ থেকে ফেরত নেওয়া হচ্ছে ৩০ লাখ পাঠ্যবই
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের পর সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো ২০ থেকে ৩০ লাখ বই ফেরত নিয়ে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে মস্তিষ্কের ছবি যুক্ত করে পুনরায় ছাপানো হবে। এতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে বইটির মুদ্রণ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত বই মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এনসিটিবি।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই ছাপানো হচ্ছে প্রায় ৩৮ লাখ কপি। এর মধ্যে বেশির ভাগ বইয়ের মুদ্রণকাজ শেষ হয়েছে। প্রায় ২০ লাখ বই ছাপা শেষে মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে মুদ্রণ মালিকদের দাবি, অন্তত ৩০ লাখ বই ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।

বইগুলো ফেরত এনে সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণ করতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি সময়ের চাপও তৈরি হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি পাঠ্যবই ছাপাতে খরচ হচ্ছে ৫৭ টাকা।

আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ চলছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্যও বই রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে ছাপানো হচ্ছে ২২ কোটির বেশি বই। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার। সব মিলিয়ে বই ছাপানোর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা।

এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত বাঁধাই, কাটিং ও প্রাক্‌-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) শেষে ৭৬ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম দফায় দরপত্র হওয়া মাধ্যমিক স্তরের ২০ কোটি ৮৪ লাখের বেশি বইয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে সরবরাহ করা হয়েছে ৪০ শতাংশ বই। প্রাথমিকের বই ছাপা শুরুর প্রায় এক মাস পর মাধ্যমিকের বই ছাপানো শুরু হয়।

দাঁড়িপাল্লার ছবি নিয়ে বিতর্ক

ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তর—উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দেখানো হয়েছে। এতে প্রথম স্তরে বৃত্তাকার প্রতীক, দ্বিতীয় স্তরে পরমাণু বা নেটওয়ার্কসদৃশ চিত্র, তৃতীয় স্তরে মস্তিষ্ক এবং সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞায় দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়।

২০২৫ সালের বইয়ে থাকা দাঁড়িপাল্লার ছবিটি ২০২৬ সালের সংস্করণে পরিবর্তন করে মস্তিষ্কের ছবি যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৭ সালের বইয়ের নকশায় পুরোনো ছবিটি আবার ফিরে আসে। দাঁড়িপাল্লা একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধিত নির্বাচনি প্রতীক হওয়ায় এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

এনসিটিবি এখন ‘প্রজ্ঞা’ শব্দটি অপরিবর্তিত রেখে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে মস্তিষ্কের ছবি যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ২০২৫ সালের বইয়ের পুরোনো নকশাটি ভুলক্রমে পুনরায় যুক্ত হয়েছিল।

আগামী শিক্ষাবর্ষে নতুন বই

আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা যুক্ত করার বিষয় রয়েছে।

এ ছাড়া চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে মোট চারটি নতুন বই যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির বই দুটি হলো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’। ষষ্ঠ শ্রেণির বই দুটি হলো ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’।

নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা-সম্পর্কিত বর্ণনাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা জানান, রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভা ডাকা হয়েছে। সভায় অনুমোদন পেলে নতুন চারটি বই ছাপানোর কার্যাদেশ দেওয়া হবে।

পাঠ্যবইয়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধিত নির্বাচনি প্রতীক পাঠ্যপুস্তকে ব্যবহারের ঘটনায় বই প্রণয়নপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষাবিদদের মতে, পাঠ্যপুস্তকে রাজনৈতিক প্রতীকের ব্যবহার কোনো আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা হলে তা শিক্ষার বস্তুনিষ্ঠতা ক্ষুণ্ন করতে পারে। এ ঘটনায় প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এনসিটিবির এক সদস্য জানান, মাঠপর্যায়ে পাঠানো বই ফেরত আনার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনলাইন সভা হয়েছে। বইগুলো সংগ্রহ করে সংশোধনের পর আবার পাঠানো হবে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত বই সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।

এনসিটিবির আরেক কর্মকর্তা বলেন, বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ভুল তথ্য না পায়, তা নিশ্চিত করতে তাঁরা কাজ করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধিত বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়াই এখন সংস্থাটির বড় চ্যালেঞ্জ।

এসআই/

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।