নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরিত গেজেটের মাধ্যমে ২০১৬ সালের পুরোনো আচরণবিধি বাতিল করা হয়েছে। নতুন বিধিমালার লক্ষ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধির সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সামঞ্জস্য তৈরি করা।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, প্রার্থী বা তাঁর সমর্থকেরা নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে সাদা-কালো ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল ব্যবহারের পাশাপাশি নির্দিষ্ট শর্তে বিলবোর্ড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বিলবোর্ডের সর্বোচ্চ আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট। সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড স্থাপন করা যাবে। উপজেলা নির্বাচনে পুরো উপজেলায় সর্বোচ্চ ২০টি এবং জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রচারসামগ্রীতে প্রার্থীর ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি পলিথিন বা পিভিসি সামগ্রী ব্যবহার এবং প্রচারণায় জীবন্ত প্রাণী ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারে মাইক ও শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহারের সময়ও পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন নিয়মে দুপুর ১২টা থেকে মাইকিং শুরু করা গেলেও সূর্যাস্তের আগেই তা বন্ধ করতে হবে।
প্রচারে ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহন ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও প্রার্থীর জন্য একাধিক মাইক্রোফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্রের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারের সুযোগ রাখা হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অপপ্রচার বা অপব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অনলাইনে নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থী বা তাঁর সমর্থকেরা যে অর্থ ব্যয় করবেন, তা নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ব্যক্তিগত এনআইডি নম্বর কিংবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের হিসাবসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করাকেও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তিও কঠোর করা হয়েছে। আগের বিধিমালায় সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও নতুন নিয়মে তা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান বহাল রাখা হয়েছে।
অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলও করতে পারবে।
ইসি জানিয়েছে, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতেই আচরণবিধিতে এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নতুন বিধিমালা মাঠপর্যায়ে কার্যকর হবে।
এসআই/দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।