উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সপ্তম দিনেও অচলাবস্থা বিরাজ করছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট)। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে প্রধান ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতিতে রয়েছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে চুয়েটের প্রধান ফটকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও কঠোর অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
টানা আন্দোলনের কারণে চুয়েটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রশাসনিক ভবনের দরজায় তালা থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশনজটের আশঙ্কাও বাড়ছে।
এদিকে সকাল ৯টা থেকে সেখানে ‘৫৬ বল শর্ট পিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ আয়োজন করা হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ‘শ্বেত শাড়ির গণসাক্ষ্য’ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। একটি শ্বেত শাড়িতে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের সময়কার বিভিন্ন কার্যক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের গণসাক্ষ্য তুলে ধরা হচ্ছে।
দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের ওপর বিভিন্ন মহল থেকে চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি রয়েছে। পরে সমাবেশ ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবেন আন্দোলনকারীরা। বিকেল ৫টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিগ স্ক্রিনে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের কথা রয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালনের পর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে পরিবর্তন করে অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। আগের উপাচার্যকে চুয়েটবান্ধব ও দক্ষ দাবি করে নতুন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল এবং অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন তারা।
এদিকে সদ্য নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলমও দায়িত্ব গ্রহণের চেষ্টা করছেন। ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা থাকায় তিনি অনলাইনে যুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। ফলে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান সংকট দ্রুত সমাধান হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশও তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে কর্মসূচিতে রয়েছেন। শিক্ষার্থীরা দ্রুত সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টির সমাধান এবং তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আর/ দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।