দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা আর উদ্বেগ—এসব নিয়ে চলতে গিয়ে অনেকেই অজান্তেই জড়িয়ে পড়ছেন অতিরিক্ত চিন্তার একটি চক্রে, যার নাম ওভারথিংকিং। এটি কোনো নির্দিষ্ট রোগ না হলেও, দীর্ঘদিন ধরে মনের গভীরে প্রভাব ফেলে জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে।
ওভারথিংকিং কী?
ওভারথিংকিং বলতে বোঝায় এমন কোনো বিষয় নিয়ে বারবার এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে চিন্তা করা, যা হয়তো এখনকার মুহূর্তে জরুরি নয়, কিংবা যেটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। অতীতের ভুল, ভবিষ্যতের অজানা আশঙ্কা কিংবা ‘যদি এমন হয়’ জাতীয় ভাবনাই এর প্রধান উপাদান।
উদাহরণস্বরূপ— কাল ইন্টারভিউটা ঠিকমতো দিতে পারবো তো?, ও আমাকে খারাপ ভাবলো কি না?, এই ভুলটার পর যদি সুযোগটাই হারাই?—এই সব চিন্তা মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে।
কেন হয় ওভারথিংকিং?
*ভবিষ্যতের ভয়
*নিজেকে সবকিছুর জন্য দোষারোপ
*নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়
*নিজের উপর অতি প্রত্যাশা
*সামাজিক মূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ
কীভাবে মুক্তি মিলবে?
১. চিন্তার কারণ চিহ্নিত করুন:
একটি খাতায় লিখুন—কেন আপনি উদ্বিগ্ন? এতে মাথার ভেতরের এলোমেলো চিন্তা কিছুটা গুছিয়ে আসে।
২. কোনটা নিয়ন্ত্রণে, কোনটা অনিয়ন্ত্রিত:
আপনার চিন্তাগুলো দুই ভাগে ভাগ করুন—যেটা আপনার হাতে আছে, সেটি নিয়ে কাজ করুন। যেটা নিয়ন্ত্রণে নেই, তা নিয়ে চিন্তা বাদ দিন।
৩. ‘যদি’ থেকে বেরিয়ে আসুন:
যদি ভুল করি?, যদি অপমানিত হই?—এই ধরনের ভাবনার বাস্তব ভিত্তি খুঁজে দেখুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো কল্পনার তৈরি।
৪. চিন্তার জন্য সময় নির্ধারণ করুন:
নিজেকে বলুন—এই বিষয়টি নিয়ে আমি চিন্তা করব, আগে একটু ফ্রি হয়ে নি। দেখবেন, তখন সেই চিন্তার তীব্রতা অনেকটাই কমে গেছে।
৫. মনোযোগ সরান:
শরীরচর্চা, গান শোনা, বই পড়া, প্রার্থনা বা মেডিটেশন—এগুলো মনকে অন্যদিকে ব্যস্ত রাখে।
৬. লিখে ফেলুন:
মনে যা আসছে, সব লিখে ফেলুন। এটি এক ধরনের মানসিক প্রেসার কমানোর কাজ করে।
৭. শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন:
অলসতা ও নির্জনতা ওভারথিংকিং বাড়ায়। প্রতিদিন কিছু না কিছু শারীরিক কার্যক্রম নিশ্চিত করুন।
৮. নিজেকে মায়াবী চোখে দেখুন:
নিজেকে দোষারোপ না করে বলুন, আমি তখন আমার সর্বোচ্চটাই দিয়েছিলাম। এই একটি কথা অনেকটা হালকা করে দেয় মনকে।
প্রয়োজনে সাহায্য নিন
সব চেষ্টা সত্ত্বেও যদি ওভারথিংকিং আপনার দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, তবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখুন, মানসিক চাপ কোনো লজ্জার বিষয় নয়—বরং সচেতনতার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব।
শাখাওয়াত সোহান
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।