বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরের পুরাতন রেলস্টেশন এলাকায় মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ যখনই সংকটে পড়েছে, বিএনপি অতীতে সেই সংকট থেকে দেশকে বের করে এনেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বিএনপির রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গর্ত থেকে উঠে আসতে কিছুটা সময় লাগবে। কিন্তু কাজ করলে এই বিএনপি পারবে, এই দল পারবে, এই নেতৃত্ব পারবে। তারেক রহমানও পারবেন।’
দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের স্মরণ করে আমির খসরু বলেন, বিএনপির অনেক নেতাকর্মী রাজপথের আন্দোলনে জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। কেউ প্রাণ হারিয়েছেন, কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। দীর্ঘ সময় পর তাদের অনেককে একসঙ্গে দেখে তিনি আনন্দিত।
তিনি বলেন, দেশের স্বার্থই সবার আগে। ‘দেশ ও দল—দল নয়, দেশ বড়’—এই শিক্ষা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাদের দিয়েছেন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াও নিজের ত্যাগের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের একই শিক্ষা দিয়েছেন।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, দেশের মানুষের সমস্যাকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। জনগণের সামগ্রিক সমস্যাকে বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে কাজ করতে হবে। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও বিএনপি সাহসী বাজেট দিয়েছে এবং সেটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সরকারি কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন অপশক্তি সক্রিয় হতে পারে। মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় জনগণকেও এসব অপরাধের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে কেউ দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করলে বিএনপি রাজপথেই তার জবাব দেবে।
তিনি বলেন, ‘শুনছি ৫ সেপ্টেম্বর এক হাজার গাড়ি নিয়ে একটি র্যালি হবে। দেশে তেল-গ্যাস নেই বলা হলেও এক হাজার গাড়ির র্যালির জন্য বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন হবে। এটাই বাংলাদেশের রাজনীতির এক ধরনের দ্বিমুখিতা।’
মীর হেলাল বলেন, জনগণ তারেক রহমানকে পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথের আন্দোলনে ছিল। তাই রাজনৈতিক কর্মসূচির জবাব রাজপথে দেওয়ার সক্ষমতা দলটির রয়েছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।
এতে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, বিএনপির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর এবং কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুল আলমসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নেন। নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে যোগ দেন।